শস্য নিয়ে বন্দর ছেড়েছে ইউক্রেনের আরো ৩ জাহাজ

প্রতীকী ছবি: এএফপি

আরো তিনটি শস্যবাহী জাহাজ শুক্রবার ইউক্রেনের বন্দর ছেড়েছে। যুদ্ধজনিত দীর্ঘদিনের বিরতির পর এর আগে গত সোমবার প্রথম ভুট্টাবাহী একটি জাহাজ ইউক্রেন ছাড়ে।

শস্য রপ্তানির অনুমোদন দিয়ে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার চুক্তি হওয়ায় বিশ্বের খাদ্যশস্যর মূল্য কমতে শুরু করেছে জুলাই থেকেই।

খাদ্যশস্যের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য বিশেষ করে, ধাতব পদার্থ পরিবহনের নিরাপদ পথ চুক্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে কিয়েভ।

ইউক্রেনের অবকাঠামোবিষয়ক মন্ত্রী ওলেকসান্দর কুভরাকভ জাহাজগুলো বন্দর ত্যাগের পর ফেসবুকে লেখেন, ‘আমরা আশা করছি, জাতিসংঘ থেকে আমাদের অংশীদারদের ও তুরস্কের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বহাল থাকবে। তা ছাড়া আমাদের বন্দর থেকে খাদ্যশস্যের রপ্তানি সব বাজার অংশীদারদের কাছে আরো স্থিতিশীল ও অনুমানযোগ্য হবে বলে আশা করছি। ’

গত সোমবার প্রথম জাহাজ ওডেসা বন্দর ছেড়ে যায়। ইউক্রেনের অর্থ উপমন্ত্রী তারাস কাচকা ফিনানশিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘এ চুক্তি সরবরাহসম্পর্কিত। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরে জাহাজগুলোর নিরবচ্ছিন্ন বিচরণই এর উদ্দেশ্য। ’ শস্য ও আকরিক লোহার মধ্যে পার্থক্য কী হবে, তা জানতে চেয়ে প্রশ্ন রাখেন তিনি। এর জবাবে ক্রেমলিন বলেছে, শুধু রাশিয়ার লোহা উত্পাদনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই এর সমাধান সম্ভব।

ব্যাপক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির চুক্তিকে একটি বিরল কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে ধরা হচ্ছে। গত ২২ জুলাই স্বাক্ষরিত ওই নিরাপদ পথ চুক্তির মধ্যস্থতা করেছে জাতিসংঘ ও তুরস্ক। ইউক্রেনের শস্যবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া অব্যাহত রাখলে বিশ্বে দুর্ভিক্ষ হানা দিতে পারে, জাতিসংঘের এমন সতর্কবার্তার পর এ চুক্তিতে সম্মত হয় দুই দেশ।

এদিকে রাশিয়া সমুদ্রপথের অবরোধ তুলে নেওয়ায় গতকাল শুক্রবার তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। তারা জানিয়েছে, গত মার্চে খাদ্যমূল্য রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছিল।

এফএওর খাদ্যমূল্য সূচকে বলা হয়, খাদ্যমূল্য টানা কয়েক মাস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর জুনের তুলনায় জুলাইয়ে ৮.৬ শতাংশ কমে এসেছে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের বাজারে এ পরিবর্তন চোখে পড়েছে বেশি। ভোজ্য তেলের দাম প্রায় ১৯.২ শতাংশ কমেছে। সূত্র : রয়টার্স ও এএফপি।

LEAVE A REPLY