নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেড় মাস পর দেশে ফিরেছেন সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। এরই মধ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নতুন গান ও স্টেজ শো নিয়ে। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ
প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন। কেমন কাটল?
খুব ভালো।
আমাকে পেয়ে সেখানকার ভক্ত-শ্রোতারা সবাই খুশি। দেড় মাস ছিলাম সেখানে, তবু মনে হচ্ছে এই সেদিন গেলাম। কখন যে আটটি শো করলাম আর বিভিন্ন শহর ঘুরে বেড়ালাম টেরই পাইনি। অনেকে অনুরোধ করেছিলেন আরো কিছু দিন থেকে যেতে।
বিশেষ করে আয়োজকরা আরো কয়েকটি শো করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু দেশেও কিছু শো পড়ে গেছে। গানের রেকর্ডিংও আছে। তাই চলে এলাম।
তবে শিগগিরই আবার যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।
আমেরিকার কোথায় কোথায় শো করেছেন?
নিউ ইয়র্কে করেছি তিনটি শো। সেখানেই বেশি থাকা হয়েছে। এ ছাড়া বায়োলো, অরল্যান্ডো, আটলান্টাসহ আরো কয়েক জায়গায় শো করেছি। প্রতিটি শোই হাউসফুল, আমারও গাইতে দারুণ লেগেছে।
আপনি তো বিএনপির রাজনীতি করেন। ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাজনীতি নিয়ে কী ভাবছেন?
আপাতত রাজনীতি নিয়ে ভাবছি না। সবে মাত্র দেশে ফিরলাম। নিয়মিত গানই করছি। আগামীকাল উত্তরায় একটা শো আছে। সেটার প্র্যাকটিস করছি। অন্য সব বিষয়ে সময় হলে সিদ্ধান্ত নেব।
হাবীব ওয়াহিদের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করেছেন ফেসবুকে। নতুন গান আসছে আপনাদের?
হ্যাঁ। আমাদের দ্বৈত গান প্রকাশিত হবে শিগগিরই। মাত্র রেকর্ডিং শেষ হয়েছে। গানটি হাবীব ভাইয়ের ইউটিউব চ্যানেল থেকেই প্রকাশিত হবে। তখন গানটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাব।
হাবীব এবং আপনার গাওয়া চলচ্চিত্রের বেশির ভাগ গানই শ্রোতারা পছন্দ করেছেন। আপনাদের দুজনকে অনেক দিন প্লেব্যাকে পাওয়া যাচ্ছে না…
আমাদের একসঙ্গে গান করতে বাধা নেই। তবে প্রযোজক-পরিচালকদের ইচ্ছা থাকতে হবে তো। এখনো জানি না কেন তাঁরা আমাদের একসঙ্গে ডাকেন না। হয়তো তাঁদের নিজস্ব কোনো মতামত আছে। আমি প্লেব্যাক খুব পছন্দ করি। এখন যে চলচ্চিত্রগুলোতে গাওয়ার প্রস্তাব পাই, সেগুলোর বেশির ভাগই মনের মতো হয় না। তাই করতে পারি না।
দেড় যুগ আগেও চলচ্চিত্রের একটি গানে বাজেট ছিল দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা। এখন অনেক গানের বাজেট মাত্র চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার টাকা। এখানে শিল্পী পাবেন কী, মিউজিশিয়ান পাবেন কত আর গীতিকার-সুরকারই বা পাবেন কত? শুনেছি একটা চলচ্চিত্রের বাজেট গিয়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি থেকে আট কোটি টাকা, অথচ প্রযোজক-পরিচালকরা পারলে গান ফ্রি করাতে চান। কেন? সারাজীবন শুনে এসেছি, চলচ্চিত্রের জন্য গান একটা বড় পার্ট। সেই গানকে এখন কোনো রকম চালিয়ে নেওয়ার মতো বিষয় বলে মনে করা হচ্ছে। হাবীব ভাইয়ের মতো সংগীত পরিচালক চলচ্চিত্রের গান নিয়মিত গান করেন না। এটা তো চলচ্চিত্রের জন্যই ক্ষতি।
শেষ কবে প্লেব্যাক করেছেন?
যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আগে, তা প্রায় দুই মাস হতে চলল। গানটি লিখেছেন কবির বকুল ভাই, সংগীত করেছেন ইমন চৌধুরী। আমার সঙ্গে গেয়েছেন ইমরান মাহমুদুল। গানটি ‘লিপস্টিক’ ছবিতে ব্যবহার করা হবে।
সংগীতে আপনার ক্যারিয়ার প্রায় দেড় যুগের। যা পেয়েছেন, আপনি তৃপ্ত?
ক্যারিয়ার নিয়ে আমি শতভাগ খুশি। ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে আমার অন্তত ১৮টি গান আছে, যেগুলো মানুষের মুখে মুখে। একজন শিল্পীর এক জীবনে ১৮টি গানই যথেষ্ট। তবে এই জগৎকে আমার আরো অনেক দেওয়ার ছিল। দিতে ইচ্ছাও করে। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি, মিডিয়ার অবস্থা, চলচ্চিত্রের বাজার আমাকে বঞ্চিত করছে। আশা ছাড়িনি, হয়তো খুব শিগগির প্রেক্ষাপট বদলাবে। আবার ভালো গানের কদর বাড়বে, ভালো সংগীত পরিচালকদের ডাক পড়বে চলচ্চিত্রে।











































