আসন্ন কপ-২৭ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) নির্বাহী প্রধান শামসুদ্দোহা বলেছেন, ‘উন্নত বিশ্বের চাপিয়ে দেওয়া ঋণপ্রবাহে আগ্রহ না দেখিয়ে ন্যায্যতাভিত্তিক অনুদানের জন্য বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রসমূহকে জোর দিতে হবে। জলবায়ু অর্থায়ন ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের চাহিদামতো হওয়া জরুরি। জলবায়ু সম্মেলনে আমাদের সামনে আসা সুযোগগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের একটি সমন্বিত কর্মকৌশল তৈরি করতে হবে। ’
আজ শনিবার ডেইলি স্টার সেন্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে এক গোলটেবিল আলোচনাসভায় প্রবন্ধ উপস্থাপনায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।
শামসুদ্দোহা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ করতে উন্নত রাষ্ট্রসমূহ এখন পর্যন্ত তাদের কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেনি। অবিলম্বে বৈশ্বিক কার্বন উদগিরণ হ্রাসকরণের লক্ষ্যমাত্রা যথেষ্ট পরিমাণে বাড়াতে না পারলে পৃথিবীর পরিস্থিতিকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। বর্তমান বাস্তবতায় জলবায়ু অর্থায়ন ১০০ বিলিয়ন ডলার কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। আমাদের জলবায়ু অর্থায়নের নতুন লক্ষ্য ঠিক করতে হবে এবং এই ফান্ডটি কোনোভাবেই এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কম হওয়ার সুযোগ নেই। কপ-২৭ উপলক্ষে আমাদের সামনে আসা সুযোগগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের একটি সমন্বিত কর্মকৌশল তৈরি করতে হবে, আমরা নাগরিক সমাজ সেই বিষয়ে সাহায্য করতে চাই। ’
গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তানভীর শাকিল জয় বলেন, ‘এরই মধ্যে বাংলাদেশে অন্যতম একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জলবায়ু অভিবাসী। আমরা আমাদের অবস্থান থেকে কথা বলে যাচ্ছি; কিন্তু দুঃখজনক হলো, বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিকট থেকে এ বিষয়ে আমরা যথাযথ উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না। অনেক উন্নত রাষ্ট্র মনে করে আমরা এ বিষয়টিকে সামনে আনছি তাদের দেশে অভিবাসী হওয়ার জন্য; কিন্তু তাদের বলে দিতে চাই, আমাদের সাধারণ মানুষের কোনো আগ্রহ নেই বাস্তুচ্যুত হয়ে তাদের দেশে যাওয়ার। আমাদের যে ক্ষয়ক্ষতি তারা করেছে তার জন্য দয়া করে আমাদের ক্ষতিপূরণগুলো দিয়ে দিক। ’
তিনি আরো বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের মতো একটি জায়গায় নীতিনির্ধারক এবং নাগরিক সমাজের মাঝে কোনো রকম দূরত্ব থাকা উচিত নয়। এখনই বিশ্বের সকল শক্তি এবং মত এক হয়ে যাবে না, কিন্তু আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করে যেতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ’
অধিক ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোর জন্য আলাদা অর্থায়ন কাঠামোর দাবি এবং সরকারকে এটি নিয়ে কাজ করতে আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, ‘আমাদের জলবায়ু সমঝোতা আলোচনায় একটি সমন্বয়হীন প্রক্রিয়ায় চলছে, একটি যথাযথ সমন্বিত ব্যবস্থা প্রণয়নের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। নাগরিক সমাজ, নীতিনির্ধারক, গবেষক সমাজের মধ্যে একটি সমন্বয় তৈরি করা জরুরি। ’








































