প্রত্যাবর্তনের সংজ্ঞা যদি নতুন করে লিখতে হয় তাহলে সেটা জাপানেরই লেখা উচিত। বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসার অসাধারণ দুটি গল্প লিখেছে তারা। দুটি ম্যাচেই প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া আর দ্বিতীয়ার্ধে ঝড় তুলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে জাপান। একেবারে নিখুঁত হাতে সমীকরণ মিলিয়ে ফেলে দুটি ম্যাচেই জিতেছে ২-১ গোলে।
এশিয়ার দল হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে জাপানের যেন নতুন সূর্যোদয়।
জার্মানিকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল জাপানিজরা। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে জাপান বুঝিয়ে দিল, জার্মানির বিপক্ষে জয় মোটেও ‘ফ্লুক’ ছিল না। দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জিতে গ্পরুসেরা হয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে জাপান।
১৯৯৪ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইরাকের কাছে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ড্র করেছিল জাপান। তাতে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার অপেক্ষা বেড়েছিল তাদের। কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটি জাপানের ফুটবল ইতিহাসে ‘দোহা ট্র্যাজেডি’ হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে। সেই ম্যাচটি খেলেছিলেন জাপানের বর্তমান কোচ হাজিমে মরিয়াসু। স্পেনকে হারানোর পর স্মৃতি রোমন্থন করে মরিয়াসু বলেছেন, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে আমার মাথায় দোহা ট্র্যাজেডির স্মৃতি ঘুরপাক খাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়ে খেলোয়াড়রা বলের দখল পেতে আগ্রাসী চ্যালেঞ্জ করে। আমি বুঝতে পারি, সময় বদলে গেছে। জাপানি ফুটবলের নতুন যুগ শুরু হয়েছে। নতুন মনোভাব নিয়ে খেলছে ছেলেরা। ’
জাপানের এমন পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হয়েছেন আর্জেন্টিনাকে ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ সেজার লুই মেনোত্তি। জাপান দলের প্রশংসা করে তিনি বলছেন, ‘জাপানিরা যেভাবে খেলল তাতে পেলের সান্তোস বা ক্রুইফের নেদারল্যান্ডস মনে হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও তারা দক্ষতার দিক থেকে পিছিয়ে ছিল। মাঠে অতিরিক্ত ফাউল করত এবং সময় নষ্ট করতে চাইত। কিন্তু এখন প্রতিপক্ষের সঙ্গে শেষ মিনিট পর্যন্ত সমানে সমান খেলে। ’
২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাপানের কোচের দায়িত্বে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকো। খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ দিকে এসে খেলেছেন জাপানের শীর্ষ লিগেও। পরশু স্পেনকে হারানোর পর জিকো বলেছেন, ‘ওদের পেশাদার ফুটবলের উন্নয়নে অবদান রেখেছিলাম। হয়তো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ’ ওলে










































