সাকিবের ভাষায় এশিয়া কাপ ‘রিয়েলিটি চেক’

সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারের লিফটের দিকে যেতে যেতে একটু থামলেন সাকিব আল হাসান। পিছু ফিরে এক সাংবাদিককে জিজ্ঞেসও করলেন, ‘কী? মন ভরেছে?’ ১৫ মিনিট ধরে একের পর এক প্রশ্নের জবাব দিয়ে সংবাদমাধ্যমের মন অন্তত ভরাতে পেরেছেন বলেই মনে করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

যদিও এই এশিয়া কাপে তাঁর দল যেমন খেলেছে, তাতে সাকিবের মন ভরার কোনো কারণই নেই। তবু সামনে যখন বিশ্বকাপ, তখন এই আসরের তিনটি বাজে হারের ইতিবাচক দিকও দেখতে পাচ্ছেন এই অলরাউন্ডার।

ইতিবাচক বলতে ব্যাটিংয়ের উন্মুক্ত হয়ে যাওয়া ক্ষতগুলো সারাইয়ে মনোযোগ দেওয়ার দাবিও এখন শুনতে পাচ্ছেন তিনি।

বিশেষ করে ব্যাটিংয়ের বাস্তবতায় বাংলাদেশ এখন কোন জায়গায় আছে, এশিয়া কাপ সেটিও চিহ্নিত করে দিয়েছে বলে মনে করেন সাকিব, ‘‘ব্যাটিং নিয়ে আমি অবশ্যই চিন্তিত। বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা ভালো ব্যাটিং করছি না। সে জায়গাগুলো দেখার এবং চিন্তা করার আছে যে কিভাবে ঠিক করতে পারি।

বিশ্বকাপের আগে এই টুর্নামেন্ট খুবই কাজে দিয়েছে। ‘রিয়েলিটি চেক’টা দরকার ছিল আমাদের।’’

এখন দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আর বড় আসরে খেলা বাংলাদেশ দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্যও ধরা পড়ছে বাংলাদেশ অধিনায়কের চোখে, ‘‘দ্বিপাক্ষিক সিরিজে আমরা সবসময়ই ভালো খেলি। বলতে পারবেন না যে আমরা কখনো খারাপ দল ছিলাম।

এরকম বড় টুর্নামেন্টগুলোতেই আমাদের বড় পরীক্ষাগুলো হয়। যেখানে আমরা কখনোই আহামরি কিছু করি না। ২০০৭ বিশ্বকাপে জিতেছি ৩টি ম্যাচ, ২০১১-র বিশ্বকাপেও তা-ই। ২০১৫ এবং ২০১৯ সালেও সেই তিনটি করেই জয়। অনেকে অনেক কথা বলতে পারে।

কিন্তু যখনই ‘রিয়েলিটি চেক’টা হয়, তখন কিন্তু আমরা ব্যর্থই হয়েছি। এটি ভালো যে বিশ্বকাপের আগে আগে এই টুর্নামেন্টটি হয়েছে। সবাই অবশ্যই চিন্তা করবে এই সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করা যায়। তখন হয়তো আরো ভালো হবে।’’

সুপার ফোরের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে ২১ রানের হারে এশিয়া কাপ একরকম শেষ হয়ে যাওয়ার দিন একাধিক ব্যাটারের আউট হওয়ার ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে মাথিশা পাথিরানার করা বেশ বাইরের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে সাকিবের নিজের ব্যাট চালানোও দলের বিপদ বাড়িয়েছে। আর ওপেনার নাঈম শেখ এই পর্যায়ে যেভাবে দাসুন শানাকার নিরীহ বাউন্সারে আউট হয়েছেন, তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে জিজ্ঞাসার মুখে পড়তে হতোই। তবে তিনি এখানে টপ অর্ডারের সব ব্যাটারের দায়ই দেখলেন, ‘একটি আউট নিয়ে বলে লাভ নেই। এরকম ট্রিকি উইকেটে ওপরের চারজন যদি একটি বড় জুটি গড়তে পারতাম, ড্রেসিংরুম অনেক বেশি শান্ত হয়ে যেত এবং (দলের) আত্মবিশ্বাসও বাড়তো। দ্রুত ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর সবসময়ই আমাদের খেলাটি বদলাতে হয়েছে। ওখান থেকে ফেরা কঠিন ছিল। যদিও একটি বড় জুটি হয়েছে (মুশফিকুর রহিম আর তাওহীদ হৃদয়ের ৭২), তবে আরো জুটি দরকার ছিল। ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলতে হতো হৃদয়কে।’

প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের উইকেটে শ্রীলঙ্কার ২৫৭ রানও বাংলাদেশের সাধ্যের বাইরে ছিল বলেই মনে হতে পারে সাকিবের কথায়। দিনের তুলনায় রাতে এখানকার উইকেটে রান করা সহজ হয়ে যাওয়ার পরও সুযোগটি নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতাই দেখলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘২৬০ (আসলে ২৫৮) তাড়া করতে হলে খুবই ভালো ব্যাটিং করতে হতো। এই উইকেটে ২৩০-২৪০ রান তাড়া করা সম্ভব। ২৬০ অবশ্যই বেশি ছিল। সেটিও বেশি মনে হতো না। যারাই ব্যাটিং করেছে, দিনের চেয়ে (রাতে) ভালো ছিল উইকেট। সেই সুযোগটি আমরা নিতে পারিনি। আর আমরা ২০ রান বেশি দিয়ে ফেলেছি।’

বাড়তি রান দেওয়ার পর হয়ে গেল ব্যাটিংয়ের ‘রিয়েলিটি চেক’ও!

LEAVE A REPLY