গণপরিবহনে অব্যাহতভাবে ধর্ষণের ঘটনা ও নারীর নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদ ও প্রতিকারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি (৬৬টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম)।
গতকাল বুধবার বিকেল চারটায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রতিনিয়ত গণপরিবহনে নারীর প্রতি সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিষয়টি খুবই পুরানো এবং প্রায়ই ঘটছে।
এসব ঘটনার বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যাচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিরোধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতির কথা বলা হলেও এর বাস্তবিক প্রয়োগ নেই। এর ফলে একটি ঘটনার রেশ না কাটতেই পুনরায় আরো অসংখ্য ঘটনা ঘটছে।
বক্তারা এ সময় গণপরিবহনে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। তারা বলেন প্রতিটি ঘটনার মামলার বিচারকাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে, টহলরত পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, যারা সড়কপথে আছে তাদের আচরণগত পরিবর্তনের জন্য প্রশিক্ষণ দিতে হবে, প্রকৃত অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ঘটনা প্রতিহত করতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সাম্প্রতিক নারী নির্যাতনের নানা নতুন ধরণ যুক্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় পুরনো আইন দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় বিচারের কাজ পরিচালনা করা যাবে কিনা তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।
এ সময় তিনি গণপরিবহনে ধর্ষণের ঘটনা প্রতিহত করতে গণপরিবহন মালিক, গণপরিবহন শ্রমিক ও গণপরিবহনমন্ত্রীসহ সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন সকলকে নিজ নিজ দায়বদ্ধতা থেকে জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের শামসুন্নাহার পলি, ওয়াইডব্লিউ সিএ অব বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর বিনা অধিকারী, একশন এইড এর নুরুন্নাহার, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির অন্যতম সদস্য দিলশাত আরা, ব্লাষ্টের শাহরিয়ার হোসেন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উপপরিচালক শাহনাজ সুমী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি প্রমুখ।











































