যে ‘প্রতিবাদে’ একশ লোকও হয় না…

৪০-৫০ জন লোক একটা ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, সামনে কিছু টিভি ক্যামেরা, মোবাইল হাতে কিছু ইউটিউবার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ভিড়। এভাবেই চলছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে জাতীয় দলে ফেরানোর জন্য তার ভক্তদের ‘প্রতিবাদ’ কিংবা ‘মহাসমাবেশ’। প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের পর আজ শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলার সামনেও দেখা গেল এমন মানববন্ধন। অংশগ্রহণকারীরা সেখানে নানারকম স্লোগান দিচ্ছেন।

উদ্দেশ্য একটাই- মাহমুদউল্লাহকে জাতীয় দলে ফেরাতে হবে।

গত কয়েকটি সিরিজ ধরেই মাহমুদউল্লাহ জাতীয় দলে সুযোগ পান না। তার ব্যাটে নেই রান। ফিল্ডিংয়ে নেই আগের রিফ্লেক্স।

প্রশ্ন উঠতেই পারে, মাহমুদউল্লাহর চেয়ে বয়স্করা কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেন না? অবশ্যই খেলে থাকেন। তবে তার জন্য উপযুক্ত ফিটনেস, রিফ্লেক্স এবং পারফর্মেন্স- সেটা তো মাহমুদউল্লাহকেই অর্জন করতে হবে। আসন্ন এশিয়া কাপ এবং বিশ্বকাপের দল গঠন করতে গিয়ে জাতীয় দলের নির্বাচকেরা স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, মাহমুদউল্লাহ তাদের পরিকল্পনায় নেই। যদি তিনি দলে ফিরতে চান, তাহলে পারফর্মেন্স করেই ফিরতে হবে।

এরপর থেকেই শুরু হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় মাহমুদউল্লাহ ভক্তদের ‘প্রতিবাদ’। অতীতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাহমুদউল্লাহ কী কী অবদান রেখেছেন- সেসব তারা তুলে ধরছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে পরিমাণ ভক্ত পাওয়া গেছে, মানববন্ধনে তার ১০ ভাগও দেখা যায়নি। শুধু সাধারণ ভক্তরাই নন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের স্ত্রী এবং শ্যালিকাও এই বিতর্ককে উস্কে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খুঁজেছেন।

তবে যাকে নিয়ে এতসব আয়োজন, সেই মাহমুদউল্লাহ কিন্তু মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

সম্প্রতি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তথা বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছিলেন, এ যুগের ক্রিকেটাররা কেন যে অবসর নিতে ভয় পান- সেটা তার বুঝে আসে না। সত্যিই তো, এই তো সেদিন অ্যাশেজের মাঝেই অবসর ঘোষণা করলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। অবসর ঘোষণার সময় এই ইংলিশ পেসার ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন। মাথা উঁচু করে বিদায় নিয়েছেন মাঠ থেকে। দলকে জিতিয়ে। তাই খালেদ মাহমুদ সুজন সেদিন বলেছিলেন, ক্রিকেটারদের জানা উচিত কখন থামতে হয়।

অনেকেই আবার মাহমুদউল্লাহকে বাদ দেওয়ার পেছনে সাকিব আল হাসানকে দায়ী করছেন। কেউ দায়ী করছেন প্রধান নির্বাচক নান্নু এবং কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেকে। এতজনকে দায়ী করার কোনো প্রয়োজনই হতো না, যদি মাহমুদউল্লাহ পারফর্মেন্স দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে পারতেন। তবে তার জন্য দরজা এখনও খুলে রেখেছে বিসিবি। শোনা যাচ্ছে, বিশ্বকাপের জন্য আলাদাভাবে ৮ জন ক্রিকেটারকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। ইনজুরি বা অন্য কোনো কারণে মূল স্কোয়াডের কেউ বাদ পড়লে যাতে ওই আটজন থেকে বিশ্বকাপ দলে নেওয়া যায়। সেই আটজনের একজন মাহমুদউল্লাহ।

LEAVE A REPLY