‘এখন শুধু ঈদেই ছবি চলে’

কোরবানির ঈদের ব্যবসাসফল ছবি ‘প্রিয়তমা’র দৃশ্যে শাকিব খান ও ইধিকা পাল। ছবি : সংগৃহীত

ঈদ-পার্বণ ছাড়া বড় বাজেটের ছবি মুক্তি দিতে চাইছেন না নির্মাতারা। দেশে হিন্দি ছবি আমদানির পর খুব কম ছবিই মুক্তি পেয়েছে। তবে কি ঈদকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে ঢালিউড? এ বিষয়ে বলেছেন চার নির্মাতা—বদিউল আলম খোকন, দীপংকর দীপন, রায়হান রাফি ও মোহাম্মদ ইকবাল।

এখানকার দর্শক ঈদ ছাড়া হলে যেতে চান না

বদিউল আলম খোকন

সব প্রযোজক-পরিচালক চান তাঁর ছবি ব্যবসা করুক, সে কারণেই ঈদকে বেছে নেন ছবি মুক্তি দিতে।

অন্য সময়ে হল চালু থাকে সর্বোচ্চ হয়তো ৫০টা। ঈদে সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়ায় ১৫০-১৬০টিতে। একটা বড় বাজেটের ছবি কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়। ঈদে সেই ছবি মুক্তি দিলে টাকাটা উঠে আসার সম্ভাবনা থাকে।

অন্তত ১০০ হল থাকবে, যারা আমাদের নামে অন্তত এক থেকে দুই লাখ টাকা এমজি দেবে। গড়ে যদি দেড় লাখ টাকাও এমজি পাই, তাহলে তো দেড় কোটি টাকা! একই ছবি অন্য সময়ে ৩০-৪০টি হলে মুক্তি দিলে তাহলে টাকা উঠবে কী করে! আমাদের এখানে ঈদ ছাড়া দর্শক হলে যান না। এটাও একটা কারণ।

প্রযোজকরা বলেই দিচ্ছেন ঈদের ছবি হলে রাজি আছি

দীপংকর দীপন

দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ধারাটা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে।

এখন শুধু ঈদেই ছবি চলে, দুই ঈদের দিকে সবাই চেয়ে থাকেন। ঈদের বাইরে বড় বাজেটের ছবিগুলোর একটিও চলেনি। প্রযোজকরা বলেই দিচ্ছেন, ঈদের ছবি হলে রাজি আছি। কিন্তু এভাবে শর্ত মেনে কত দিন! অল্প বাজেটের ছবির জন্য হয়তো কিছু প্রযোজক রাজি হচ্ছেন। ঈদের বাইরে দেশের হলে মুক্তি পাচ্ছে বলিউডের ছবি।

প্রায় প্রতি মাসেই আসছে হিন্দি ছবি, বেশির ভাগই দুই-তিন সপ্তাহের নিচে হল থেকে নামছে না। একজন দর্শক প্রতি মাসে কয়টা ছবি দেখবেন? একটাই দেখেন বেশির ভাগ দর্শক। তা ছাড়া দর্শক তিন শ টাকা দিয়ে যদি তিন শ কোটি টাকার ছবি দেখে ফেলতে পারেন, তাহলে একই দাম দিয়ে দুই-তিন কোটি টাকার ছবি কেন দেখবেন? ফলে ঈদের বাইরে দেশীয় ছবি মুক্তি পেলে দর্শক তেমন দেখছেন না, প্রযোজকরাও রাজি হচ্ছেন না।

সুপারস্টাররাই তো ঈদের বাইরে ছবি মুক্তি দিচ্ছেন না

মোহাম্মদ ইকবাল

এখন ঈদ ছাড়া বড় বাজেট বা ভালো ছবি মুক্তি দিচ্ছেন না কেউই। আমাদের দেশের তারকা আর্টিস্টরাই তো সাহস করছেন না। ঈদের বাইরে হলে চলে হিন্দি ছবি, হল মালিকরা দেশের নতুন ভালো সিনেমা পান না। যদিও আমি হিন্দি ছবি প্রদর্শনের পক্ষে নই, কিন্তু মালিকদের তো হল চালাতে হবে। আমার ছবির যেদিন মহরত হয়, সেদিনই জানিয়ে দিই ঈদে মুক্তি পাবে। নিজেদের যাঁরা বড় সুপারস্টার ভাবেন, তাঁরাই তো ঈদের বাইরে ছবি মুক্তি দিচ্ছেন না। তাঁদের এগিয়ে আসা উচিত।

আশা করি নতুন বছরে সব ঠিক হয়ে যাবে

রায়হান রাফি

ঈদ ছাড়াও ভালো ছবি মুক্তি পায়। গত বছর আমার ‘দামাল’ মুক্তি পেয়েছিল, এ বছর ‘অর্ন্তজাল’, ‘মুজিব—একটি জাতির রূপকার’ মুক্তি পেল। ঈদে মুক্তি পেলেই যে ছবি হিট হবে, এমনও নয়। ছবি ভালো হলে দর্শক দেখবেন। আমি তো সবার কথা বলতে পারব না, নিজের কথা যদি বলি, আমার ‘পরাণ’, ‘সুড়ঙ্গ’ ঈদে মুক্তি পেয়েছে। পরের ছবি বানাতে প্রায় এক বছর লাগবে। তখন তো ঈদ উৎসব চলে আসে। হিন্দি ছবি তেমন প্রভাব ফেলছে বলে মনে করি না। এখন দেশের পরিস্থিতি ভালো নয়, সে জন্য হয়তো অনেকে দ্বিধায় আছেন ছবি মুক্তি দেবেন কি না। আশা করি নতুন বছরে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। শুনেছি ভালোবাসা দিবসে ‘দরদ’ আসবে, এমন আরো কিছু ছবি জমা হয়ে আছে। সব কটিই ধীরে ধীরে মুক্তি পাবে। আমিও বিশাল পরিসরে ছবি বানানোর পরিকল্পনা করছি, ডিসেম্বরে সবাইকে জানাব। যেটা নতুন বছরেই মুক্তি পাবে।

LEAVE A REPLY