পেশি গঠনে অপরিহার্য প্রোটিন, কোন খাবারে বেশি পাবেন

সংগৃহীত ছবি

পেশি গঠন ও মেরামতের জন্য প্রোটিনকে অপরিহার্য হিসেবে ধরা হয়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা শক্তি প্রশিক্ষণ করেন তাদের জন্য বেশি প্রয়োজন। আমিষভোজীদের জন্য মাছ ও মুরগির মাংস প্রোটিনের চমৎকার উৎস। উভয়ই কম চর্বিযুক্ত এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, পেশি বৃদ্ধির জন্য কোনটা বেশি ভালো এবং কেন? সে উত্তর জানাতেই আজকের প্রতিবেদন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক—

প্রোটিনের পরিমাণ

মুরগির বুকের মাংসকে চর্বিহীন প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০০ গ্রাম মুরগির মাংসে প্রায় ২৫-২৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এতে সব প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড রয়েছে, যা পেশি মেরামত ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

মাছেও ভালো মানের প্রোটিন থাকে। বিভিন্ন ধরনের মাছে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ২০-২৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। মুরগির মতো মাছও প্রোটিনের একটি ভালো উৎস এবং পেশি গঠনে সাহায্য করে।

দিনে কয়টি কমলালেবু খাওয়া নিরাপদ?

ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড

মাছের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড।

এগুলো পেশি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, ব্যায়ামের পরের ব্যথা কমায় এবং জয়েন্টের স্বাস্থ্য উন্নত করে। এটি দীর্ঘক্ষণ প্রশিক্ষণ নেওয়া সহজ করে তোলে। অন্যদিকে, মুরগিতে প্রাকৃতিকভাবে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে না, যতক্ষণ না এটি বিশেষভাবে যোগ করা হয়। 

হজম ও শোষণ

মাছের নরম ফাইবারের কারণে এটি সাধারণত দ্রুত হজম হয়, যা দ্রুত প্রোটিন গ্রহণের জন্য এটিকে একটি স্বাস্থ্যকর পছন্দ করে তোলে। মুরগি মাংস হজম হতে কিছুটা বেশি সময় নেয়, তবে এটি ধীরে ধীরে অ্যামিনো এসিড নির্গত করে, যা দীর্ঘমেয়াদি পেশি মেরামতকে উৎসাহিত করে।

ক্যালরি ও ওজন নিয়ন্ত্রণ

ত্বকবিহীন মুরগির বুকের মাংসে ক্যালরি কম থাকে, যা চর্বি না বাড়িয়ে পেশি গঠনের জন্য এটিকে আদর্শ করে তোলে। চর্বিযুক্ত মাছে স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকার কারণে ক্যালরি কিছুটা বেশি থাকে। তবে এটি পুনরুদ্ধার এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, বিশেষ করে কঠোর প্রশিক্ষণের সময়।

উলের পোশাক পরলেই চুলকানি? যে উপায়ে বেঁচে থাকবেন

অ্যামিনো এসিড

মাছ ও মুরগির মাংস উভয়টিতেই লিউসিনসহ প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড রয়েছে। লিউসিন পেশি বৃদ্ধি শুরু করতে একটি মূল ভূমিকা পালন করে। মুরগিতে লিউসিনের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে, যা ব্যায়ামের পরে পুনরুদ্ধারের জন্য এটিকে আরো কার্যকর করে তোলে। মাছে লিউসিনের পরিমাণ কিছুটা কম থাকে।

পেশি বৃদ্ধির জন্য কোনটি ভালো?

পেশি গঠনের জন্য মাছ ও মুরগির মাংস উভয়ই প্রোটিনের চমৎকার উৎস। যদি আপনার লক্ষ্য কম চর্বিসহ চর্বিহীন পেশি তৈরি করা হয়, তবে মুরগি একটি ভালো বিকল্প। তবে, আপনি যদি উন্নত পুনরুদ্ধার, জয়েন্টের স্বাস্থ্য এবং প্রদাহ কমানোর পাশাপাশি পেশি বৃদ্ধি চান, তবে মাছ বেশি উপকারী।

খাদ্যাভ্যাসে উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করা সবচেয়ে ভালো। মুরগির মাংস খেলে চর্বিহীন প্রোটিন পাওয়া যাবে, আর মাছ খেলে পেশি পুনরুদ্ধার দ্রুত হবে।

সূত্র : আজতক বাংলা

LEAVE A REPLY