নাশকতার এক মামলায় মির্জা ফখরুল ও দুই মামলায় আমীর খসরুর জামিন

সংগৃহীত ছবি

নাশকতার ৯ মামলায় এক সঙ্গে জামিন পাওয়ার সাতদিনের মাথায় নাশকতার আরো এক মামলায় জামিন পেলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর সঙ্গে নাশকতার দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম তাহমিনা হকের আদালত ১০ হাজার টাকার বন্ডে তাঁদের জামিন দেন। এ জামিনের পরও আপাতত এ দুই নেতার কারামুক্তি মিলছে না বলে জানিয়েছেন তাঁদের আইনজীবীরা।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।

পরে আইনজীবী মেজবাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১০ হাজার টাকার বন্ডে দুই নেতাকে জামিন দিয়েছেন আদালত। এসব মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত তাঁদের জামিন দেওয়া হয়েছে।’

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর নয়া পল্টনে বিএনপির সমাবেশের আগে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতাকর্মীরা।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে রাজধানীর হেয়ার রোডে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। আর রাজধানীর দৈনিক বাংলার মোড় এলাকায় সংঘর্ষে আমিনুল পারভেজ নামের এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন। এ সংঘর্ষে পণ্ড হয়ে যায় বিএনপির সমাবেশ। পরে পণ্ড হয়ে যাওয়া সমাবেশ স্থল (নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে) থেকেই পরদিন হরতালের ডাক দেন বিএনপির মহাসচিব।

হরতালের দিন সকালে গুলশানের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার অভিযোগের মামরায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মোট ৩৬টি মামলা করে। এই ৩৬ মামলার মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ১১ মামলায় আর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ১০ মামলায় আসামি করা হয়।

গত ১১ জানুয়ারি ৯ মামলায় মির্জা ফখরুলকে জামিন দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সুলতান সোহাগ উদ্দিন।

এই ৯ মামলার মধ্যে পুলিশ হত্যা মামলাটিও ছিল। বুধবার পল্টন থানার নাশকতার মামলায় জামিন পান মির্জা ফখরুল। প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের পর হাইকোর্টেও জামিন মেলেনি।তাঁর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল গত ১০ জানুয়ারি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে রুল খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুলের আইনজীবী সগির হোসেন লিওন।

কালের কণ্ঠকে এ আইনজীবী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার মামলায় জামিন পেলেই তাঁর কারামুক্তিতে আর বাধা থাকবে না।’

পুলিশ হত্যা ও পল্টন থানারই নাশকতার এক মামলায় বুধবার আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। এ নেতার বিরুদ্ধে বাকি ৮ মামলায় বৃহস্পতিবার জামিন শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এসব মামরায় জামিন মিললে এ নেতারও কারা মুক্তিতে বাধা থাকবে না বলে জানান আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। 

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে গত বছর ২ নভেম্বর পুলিশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গত ১৪ ডিসেম্বর নাশকতার আরেক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও বাকি ৮ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছিল না। এ অবস্থায় বাকি ৮ মামরায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। ঢাকার সিএমএম আদালত জামিন আবেদন গ্রহণ না করায় হাইকোর্টে রিট করা হয়। গত ৮ জানুয়ারি এ রিটে শুনানির পর হাইকোর্ট ৮ মামলায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জামিন আবেদন গ্রহণ করে তা আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে সিএমএম আদালতকে নির্দেশ দেন।

LEAVE A REPLY