নিয়মিত গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের চোটে সুযোগ পেয়েই সেটি কাজে লাগাতে ভুল করলেন না মোহাম্মদ আসিফ। অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে গতকাল ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুটি শট ফিরিয়ে বাংলাদেশের ফাইনালে যাওয়ার কারিগর এই গোলরক্ষক। সেসব নিয়েই নেপাল থেকে কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : সুযোগ পেয়েই সেটা লুফে নিলেন।
এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলার সুযোগ পাবেন সেটা ভাবতে পেরেছিলেন?
আসিফ : সত্যি ভাবিনি, কিন্তু আমি প্রস্তুত ছিলাম। শ্রাবণ (মেহেদী হাসান শ্রাবণ) আর আমি এটা নিয়ে কথাও বলতাম। কিন্তু এভাবে সুযোগ চলে আসবে, সেটা ভাবিনি। মাঠে নামার পর থেকেই আমার চিন্তায় ছিল, যেভাবেই হোক দলে অবদান রাখতে হবে।
শেষ পর্যন্ত পেরেছি বলে গর্ব অনুভব করছি।
প্রশ্ন : আপনি যখন মাঠে এলেন বাংলাদেশ তখন এক গোলে এগিয়ে। এরপরই ভারত পেল সমতাসূচক গোল। তখন কী ভাবছিলেন?
আসিফ : একটাই ভাবনা ছিল যে আর গোল খাওয়া যাবে না।
যেভাবেই হোক ভারতকে হারাতে হবে। ওদের বিপক্ষে সব সময় আমরা ভালো করতে চাই। এই ব্যাপারে কোচরা আমাদের নানাভাবে অনুপ্রাণিত করেন। যাতে আমরা সেরা খেলাটা খেলতে পারি। আমরা পারব এই বিশ্বাস হারাইনি।
কারণ গতবার ওদের কাছে হেরে স্বপ্ন ভেঙেছিল আমাদের।
প্রশ্ন : তাহলে কি প্রতিশোধ নিতেই মাঠে নেমেছিলেন?
আসিফ : সেটা বলাই যায়। এক ধরনের প্রতিশোধই হয়ে গেল। ফাইনালে হারাতে পারলে আরো ভালো লাগত।
প্রশ্ন : এর আগে তো আপনার টাইব্রেকার অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি। এবার প্রথম হলেও আপনাকে স্নায়ুচাপে ভুগতে দেখা যায়নি। এর পেছনের কারণ কী?
আসিফ : অনুশীলনে নিয়মিত এটা নিয়ে কাজ করা হয়। বিশেষ করে বসুন্ধরা কিংসের অনুশীলনে। আমার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পেছনে কিংসের গোলরক্ষক কোচের (নুরুজ্জামান নয়ন) অবদান অনেক। উনার প্রশিক্ষণে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। যেটা আজ (গতকাল) কাজে লাগাতে পারলাম।
প্রশ্ন : এখন ফাইনালে প্রতিপক্ষ নেপাল। শিরোপা নিয়ে ফেরার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?
আসিফ : জানেন যে বন্যায় বিপর্যস্ত এখন দেশ। এমন সময়ে দেশকে একটি শিরোপা উপহার দিতে চাই। আমার বিশ্বাস, আমরা পারব। নেপালের কাছে গ্রুপ ম্যাচে হেরে গেলেও ফাইনালে ওদের আর কোনো সুযোগ দেব না। ওদের ভুলত্রুটি এবং শক্তির জায়গা আমরা এরই মধ্যে জেনেছি। কোচ আমাদের সেসব নিয়ে অবশ্যই কাজ করাবেন। যদিও ফাইনালের আগে মাত্র এক দিন সময় পাচ্ছি। আশা করছি, ট্রফি নিয়েই দেশে ফিরতে পারব আমরা।









































