ছবি: রয়টার্স
ফ্রান্স ও ব্রিটেন শুক্রবার প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে একটি বৈঠক করবে। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হরমুজ প্রণালিতে আবার নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে তার মিত্র দেশগুলো সাহায্য করতে প্রস্তুত।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর ইরান প্রায় সব বিদেশি জাহাজের জন্য এই প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এখন মূলত শুধু নিজেদের জাহাজ চলাচল করতে দিচ্ছে।
এরই মধ্যে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরে আসা-যাওয়া করা জাহাজের ওপরও অবরোধ আরোপ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ কার্যকর করতে সাহায্য করার জন্য অন্যান্য দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং তা না করার জন্য ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অন্যরা বলছে, এই অবরোধে যোগ দেওয়া মানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, কিন্তু তারা বলেছে যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলে বা সংঘাতের অবসান ঘটলে তারা প্রণালিটি খোলা রাখতে সাহায্য করতে ইচ্ছুক থাকবে।
আলোচিত এই উদ্যোগে আপাতত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলেছেন যে কোনো বাস্তবসম্মত মিশনকে শেষ পর্যন্ত উভয়ের সঙ্গেই সমন্বয় করতে হবে।
আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে অবহিত করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ কার্যকর করতে সাহায্য করার জন্য অন্যান্য দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং তা না করার জন্য ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অন্যান্যরা বলছে, এই অবরোধে যোগ দেওয়া মানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া। তবে তারা জানিয়েছে, একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলে বা সংঘাতের অবসান ঘটলে তারা প্রণালিটি খোলা রাখতে সাহায্য করতে ইচ্ছুক।
আলোচিত এই উদ্যোগে আপাতত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান অন্তর্ভুক্ত নয়। যদিও ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলেছেন, কোনো বাস্তবসম্মত মিশনকে শেষ পর্যন্ত উভয়ের সঙ্গেই সমন্বয় করতে হবে। আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে অবহিত করা হবে।
আমন্ত্রিত দেশগুলোকে পাঠানো এক নোট অনুসারে, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো প্রণালিটির মধ্য দিয়ে অবাধ নৌচলাচলের স্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা। যে প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয় এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা।
এই বৈঠকে জাহাজ চলাচলে যে অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং প্রায় ২০ হাজারের বেশি আটকে পড়া নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হবে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে একটি প্রতিরক্ষামূলক বহুজাতিক সামরিক মিশন গঠনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হবে।
বৈঠক শেষে একটি বিবৃতি দেওয়া হতে পারে, যেখানে এই ধরনের মিশনে কী থাকতে পারে তা কিছুটা পরিষ্কার করা হবে। তবে কোন দেশ কিভাবে অংশ নেবে, তা বিস্তারিতভাবে বলা হবে না। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, একটি অপারেশনাল কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা আসতে পারে, যা সম্ভবত ওমানে হবে। তবে ভবিষ্যতের এই মিশনের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন দরকার হবে কি না, তা নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
কূটনীতিকদের মতে, বৈঠকের শেষে দেওয়া বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপের বিরোধিতা জানানো হবে। পাশাপাশি যেসব দেশ সামরিক, কূটনৈতিক, রাজনৈতিক বা আর্থিকভাবে সহায়তা দিতে চায়, তাদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হবে।
এই বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেস এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সরাসরি উপস্থিত থাকবেন। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের আরো অনেক দেশের কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেবেন। জার্মান চ্যান্সেলর মেস বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হলে জার্মানি সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখতে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে তিনি চান, এটি জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে হোক এবং যুক্তরাষ্ট্রও এতে যুক্ত থাকুক। চীনকেও এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে তারা অংশ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।









































