এবার ফেরির র‌্যাম্প ভেঙে পদ্মায় বাস

মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে আবারও একই রকম দুর্ঘটনা। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে শুক্রবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ল যাত্রীবাহী বাস। এবার ফেরির র‌্যাম্প ভেঙে পদ্মায় পড়ে দ্রুতগতির বাসটি। তবে নৌ-পুলিশ ও ঘাট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ফেরিতে ওঠার আগেই যাত্রীরা নেমে যান। এতে প্রাণে রক্ষা পান অন্তত ৪০ যাত্রী। এ ঘটনায় বাসের চালক ও সহকারী আহত হয়েছেন।

এদিকে প্রায় দুই ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সহায়তায় ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার ৩নং ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহণের একটি বাস নদীতে পড়ে যায়। এতে ২৬ জন যাত্রী নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়ার ৭নং ঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি পরিবহণের বাসটি ফেরিতে ওঠার আগে নৌ-পুলিশের নির্দেশনায় যাত্রীরা নেমে যান। বাসে শুধু চালক ও তার সহকারী ছিলেন। দ্রুতগতিতে ফেরির দিকে ছুটে যায় বাসটি। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ফেরির র‌্যাম্প ভেঙে এটি নদীতে পড়ে যায়।

এদিকে দুর্ঘটনার সময় বাসচালকের সহকারী সাকিব হোসেন পরিস্থিতি বুঝতে পেরে লাফ দিয়ে ফেরির পন্টুনে পড়েন। এতে তিনি আহত হন। চালক ঝন্টু আলী বাসসহ নদীতে পড়ে গেলেও পরে জানালা দিয়ে বের হয়ে সাঁতরে উপরে উঠতে সক্ষম হন। পরে তাদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিকাল ৪টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে আসেন নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার সময় ফেরিঘাটের বাম পকেটে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামের একটি ফেরিতে যানবাহন উঠানো হচ্ছিল। কিন্তু এসবি পরিবহণের বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুনের সোজাসুজি পকেটে অবস্থানরত করবী অক্সফাম নামের একটি ছোট ফেরিতে উঠে এর র‌্যাম্প ও রেলিংয়ে আঘাত করে। এতে করে র‌্যাম্প ভেঙে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে নৌ-মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের অধীনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ফেরিগুলোর ফিটনেস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হবে। নৌ পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, নৌ পুলিশের সতর্কতার কারণেই আজ বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি উদ্ধারকালে এর মধ্যে কোনো যাত্রী ছিল না। বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, বাসের চালক ব্রেক ফেল করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাসের চালক ঝন্টু মিয়া বলেন, কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট থেকে সকাল সোয়া ৭টার দিকে ছেড়ে আসার আগে বাসের ইঞ্জিন ও ব্রেক ঠিক আছে কিনা তা দেখে নেই। তারপরও ফেরিতে ওঠার আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাই।

প্রত্যক্ষদর্শী বাসের যাত্রী আকরাম হোসেন, জুয়েল আলম, মেহেদী হাসান, হীরক আহমেদ, মৌমিতা শেখসহ কয়েকজন জানান, বাসটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গতিতে ফেরিতে উঠে। একপর্যায়ে ফেরির র‌্যাম্প ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।

রাজবাড়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাড মো. আসলাম মিয়া বলেন, আমরা এ ধরনের দুর্ঘটনা আর দেখতে চাই না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু দ্রুত নির্মাণের উদ্যোগ নিন। পাশাপাশি দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটকে আধুনিকায়ন করুন। একই সঙ্গে ফেরি, পন্টুন ও এই রুটে চলাচলকারী যানবাহনের ফিটনেস এবং দক্ষ চালক নিশ্চিত করুন।

ঘাট সংকটে দৌলতদিয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি : বাস দুর্ঘটনার কারণে দৌলতদিয়ার ৭নং ঘাট কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঘাট সংকটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। সরেজমিন বেলা ৩টার দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুল পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এর মধ্যে দূরপাল্লার বাসের সংখ্যাই বেশি। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন জানান, বন্ধ ঘাটটি বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ফের চালু করা হয়েছে। আশা করছি, যাত্রীদের দ–র্ভোগ দ্রুতই কেটে যাবে।

LEAVE A REPLY