ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার (৫ জুন) অর্ধশতাধিক মানুষকে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় তারা। তবে প্রত্যেকটিই পণ্ড হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধায়। সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
সিলেট: উৎমাছড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিএসএফ জোরপূর্বক লোক ঢুকিয়ে দেওয়ার (পুশ-ইন) চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি।
বিজিবি জানিয়েছে, সম্ভাব্য পুশ-ইন ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করাসহ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তারা।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ বিজিবির টহলদল উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকা থেকে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে। তাদের যাচাই-বাছাই শেষে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে পুনরায় ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।
লালমনিরহাট: পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার চারটি সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জনকে এপারে পাঠানোর অপচেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। পরে পিছু হটে বিএসএফ। পুশ-ইনের জন্য যাদের আনা হয়েছিল, তারা বর্তমানে শূন্যরেখায় ভারতের অংশে অবস্থান করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিজিবি।
নওগাঁ: সাপাহারের হাঁপানিয়া সীমান্তে ভোরে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেয় বিজিবি। তারও ভারতের শূন্যরেখাতেই অবস্থান নেন।
বিজিবি জানায়, কাউকেই অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।
এছাড়াও বিজিবির বাধায় পঞ্চগড় সীমান্তে ভোরে ভারতের প্রধানপাড়া থেকে কাঁটাতারের গেট খুলে ১০ জনকে এপারে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। পরে বিজিবির টহল দল বাধা দিলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের শূন্যরেখায়। এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: গোমস্তাপুর সীমান্তে পুশ-ইনের জন্য জড়ো করা লোকজনকে ভারত সীমান্তের ভেতরে প্রায় ৫০ গজ অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।
উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ঘুঘিয়া আনারপুর এলাকায় এসব লোকজনকে জড়ো করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ১৬ বিজিবির (নওগাঁ ব্যাটালিয়ন) সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম।
তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে ওই সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। বিএসএফ জানায়, বিষয়টি নিয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে উপজেলার পাঁচটি সীমান্ত এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে বিজিবি স্থানীয় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পাহারার কার্যক্রম চালায়। তারা পুশ-ইন প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে একই সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
পঞ্চগড়: সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া বড়বাড়ি সীমান্ত এলাকায় ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা (পুশ-ইন) রুখে দিয়েছে বিজিবি।
শুক্রবার ভোররাতে নীলফামারী ৫৬ ব্যাটালিয়নের বিজিবির বড়বাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলারের ৭৫৮/৫ কাছাকাছি ভারতের প্রধানপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
এদিকে পুশ-ইনের বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবির জোয়ানরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিএসএফের সে অপতৎপরতা রুখে দেয় এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী বড়বাড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে বিএসএফ ১০ জন নারী পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা বিজিবির বাঁধার মুখে ব্যর্থ হয়েছে। তবে আমরা সজাগ রয়েছি যাতে এ ধরনের পুশ-ইন তারা করতে না পারে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে কোম্পানি পর্যায়ে ফ্ল্যাগ মিটিং চলছে।
উল্লেখ্য, পঞ্চগড় সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও পুশ-ইন প্রতিরোধে পঞ্চগড় জেলার ১৭৭ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল জোরদার করার পাশাপাশি এলাকাবাসীকে মাইকিং করে সর্তক থাকার অনুরোধ করেছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন করতে উঠান বৈঠক প্রচার কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।











































