ডার্ক ম্যাটারের রহস্য উন্মোচনে গ্যালাক্সি গুচ্ছের ছবি প্রকাশ নাসার

ছবি: নাসা

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রে তোলা একটি নতুন ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিতে একটি বিশাল গ্যালাক্সি গুচ্ছ দেখা গেছে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ছবির মাধ্যমে ডার্ক ম্যাটার বা অদৃশ্য পদার্থের বিস্তার এবং মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামো কিভাবে তৈরি হয়েছে, সে সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানা যাবে।

ছবিতে দেখা গ্যালাক্সি গুচ্ছটির নাম ‘সিএল০০১৬+১৬০৯’। এটি ‘ম্যাকস জে০০১৮.৫+১৬২৬’ নামেও পরিচিত। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, এক্স-রে তরঙ্গদৈর্ঘ্যে এটি অত্যন্ত উজ্জ্বল।এ কারণে বহু বছর ধরেই এটি এক্স-রে ও রেডিও দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষণ করা গ্যালাক্সি গুচ্ছগুলোর একটি। এক্স-রে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এটি আসলে দুটি আলাদা গ্যালাক্সি গুচ্ছ নিয়ে গঠিত। বর্তমানে তারা আমাদের দৃষ্টিপথ বরাবর একে অপরের সঙ্গে ধীরে ধীরে মিলিত হচ্ছে। এই বিরল ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করতে গবেষকরা হাবলের ‘অ্যাডভান্সড ক্যামেরা ফর সার্ভে’ ব্যবহার করেন।তাদের লক্ষ্য ছিল গ্যালাক্সি গুচ্ছটির ডার্ক ম্যাটারের বিস্তার আরো নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই তথ্যের মাধ্যমে দুটি গ্যালাক্সি গুচ্ছের সংঘর্ষ ও একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া আরো ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামো গঠনে এ ধরনের গ্যালাক্সি গুচ্ছ কী ভূমিকা রাখে, সেটিও জানা যাবে। ডার্ক ম্যাটার সরাসরি দেখা যায় না। তাই হাবলও এটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারে না।তবে হাবল দৃশ্যমান ও অবলোহিত আলো পর্যবেক্ষণ করে সাধারণ পদার্থের ওপর ডার্ক ম্যাটারের মহাকর্ষীয় প্রভাব শনাক্ত করতে পারে। এই প্রভাবকে ‘মহাকর্ষীয় লেন্সিং’ বলা হয়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ডার্ক ম্যাটার কোথায় এবং কিভাবে ছড়িয়ে রয়েছে, সে সম্পর্কে ধারণা পান।

নাসা জানিয়েছে, নতুন এই ছবিতে হাবলের ‘ওয়াইড ফিল্ড ক্যামেরা–৩’ দিয়ে তোলা পর্যবেক্ষণও যুক্ত করা হয়েছে। এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল ‘রেলিকস (রিআয়োনাইজেশন লেন্সিং ক্লাস্টার সার্ভে)’ কর্মসূচির আওতায়। এই জরিপে প্রথমবারের মতো ৪৬টি বিশাল গ্যালাক্সি গুচ্ছের অবলোহিত ছবি তুলেছিল হাবল। পাশাপাশি এসব গুচ্ছের শক্তিশালী মহাকর্ষীয় লেন্সিংয়ের কারণে দৃশ্যমান হয়ে ওঠা আরও দূরের গ্যালাক্সিগুলোরও খোঁজ করা হয়। রেলিকস কর্মসূচির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০টি উচ্চ-রেডশিফট সম্ভাব্য গ্যালাক্সি শনাক্ত করা হয়েছে। এসব গ্যালাক্সি এতটাই দূরে যে, গ্যালাক্সি গুচ্ছগুলোর মহাকর্ষীয় লেন্সিংয়ের সাহায্য ছাড়া সেগুলো দেখা সম্ভব হতো না। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, হাবলের এই নতুন পর্যবেক্ষণ ডার্ক ম্যাটার, গ্যালাক্সি গুচ্ছের বিবর্তন এবং মহাবিশ্বের প্রাথমিক ইতিহাস সম্পর্কে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে সহায়তা করবে।

LEAVE A REPLY