মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে বৃষ্টি বেড়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, আজ শুক্রবারও দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলেই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ পাঁচ বিভাগে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
ভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে পাহাড় ধসের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে আগামীকাল শনিবার থেকে আবার কমতে পারে বৃষ্টি।
গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের জারি করা ভারি বর্ষণের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। ভারি বর্ষণজনিত কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
এর মধ্যেই গতকাল কক্সবাজারে পাহাড় ধসে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই বর্ষাকালের বৃষ্টি হয়। মৌসুমি বায়ু যত শক্তিশালী বা সক্রিয় হয়, বৃষ্টিও তত বেশি হয়ে থাকে। কিছুদিন মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় অবস্থায় ছিল।
গতকাল এটি শক্তিশালীভাবে সক্রিয় হয়েছে। ফলে দেশজুড়ে বৃষ্টি বেড়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ দেশের সব বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণও হতে পারে। সারা দেশে আজ দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
তাতে আরো বলা হয়েছে, আগামীকাল থেকে আবার বৃষ্টি ক্রমে কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আগামীকাল রংপুর বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায়; রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।
জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় সারা দেশে বৃষ্টি বেড়েছে। আগামীকালও (আজ) বৃষ্টি বেশি থাকবে। তবে শনিবার থেকে আবার বৃষ্টি কমতে শুরু করবে। পাঁচ-ছয় দিন কম থাকার পর আবার বৃষ্টি বাড়তে পারে।’
দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৫১টি পর্যবেক্ষণাগারের ৩৯টিতে গতকাল বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কক্সবাজারে, ৩৩৪ মিলিমিটার। অধিদপ্তরের হিসাবে, এটি অতিভারি (৮৯ মিলিমিটার বা বেশি) বৃষ্টিপাত। এ ছাড়া কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ১২৩ মিলিমিটার, গোপালগঞ্জে ৭১ মিলিমিটার, চাঁদপুরে ৫৭ মিলিমিটার এবং সিলেটে ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় এ সময় এক মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল খুলনায়, ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৪.৪ ডিগ্রি।










































