সিরিয়া দখলে নেমেছে ইসরাইল?

সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনের পর থেকেই ওই অঞ্চলে জোর সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে ইসরাইল। মনোনিবেশ করছে একের পর এক ভূখণ্ড দখলের দিকে।

ইতোমধ্যেই গোলান বাফার জোন সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারা। সিরিয়াজুড়ে বাড়িয়েছে হামলাও। চলমান অস্থিরতার মধ্যেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ গঠনের কথা জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। 

মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসী তৎপরতা প্রতিরোধে সেখানে ইসরাইলি বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি থাকবে না। তবে সেটি নিয়ন্ত্রিত হবে। 

এদিকে আলজাজিরার সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেছেন, ইসরাইলের এমন পরিকল্পনার প্রভাব সম্পর্কে আমরা জানি। যা দেখা গেছে অধিকৃত পশ্চিম তীরে। তবে কি পশ্চিম তীরের মতোই সিরিয়া দখলে নেমেছে ইসরাইল?এমন প্রশ্নেই উদ্বেগ বাড়ছে বিশেষজ্ঞ মহলে। আলজাজিরা। 

কাৎজ বলেছেন, তিনি সামরিক বাহিনীকে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কাৎজ। 

তবে তিনি বলেছেন, এই অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্য ‘সিরিয়ার ভ‚খণ্ডে সন্ত্রাস প্রতিষ্ঠা ও সন্ত্রাসীদের সংগঠিত হওয়া’ প্রতিহত করা। 

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এটাও নিশ্চিত করেছেন, গভীর রাতে হামলা চালিয়ে সিরিয়ার বেশ কয়েকটি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায় একের পর এক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইলি বাহিনী। বুধবার পর্যন্ত গত ৪৮ ঘণ্টায় এমন ৪৮০টি হামলা চালানোর খবর জানিয়েছে তারা। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতভর হামলা চালিয়ে আল-বাইদা ও লাতাকিয়া বন্দরে নোঙর করা সিরিয়ার নৌবাহিনীর ১৫টি জাহাজ ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইল। 

এই হামলার তথ্য স্বীকার করে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, বাশার আল আসাদের পতনের পর সিরিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোকে অকার্যকর করার যে পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরাইল এসব হামলা সেই পদক্ষেপেরই অংশ।

LEAVE A REPLY