ক্যারোলিন ড্যারিয়ান। ছবি : এএফপি
৭২ বছর বয়সী ডমিনিক পেলিকোতের প্ররোচনায় তার স্ত্রী জিসেল পেলিকোতকে ধর্ষণ করেছিলেন ৫০ জন পুরুষ। গত ডিসেম্বরে এই অভিযোগে ডমিনিক পেলিকোতকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এবার ডোমিনিক এবং গিসেল পেলিকোটের মেয়ে ক্যারোলিন ড্যারিয়ান তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। তবে বাবা ডমিনিক পেলিকোত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, স্থূল, পাতলা, কৃষ্ণাঙ্গ বা কেউ শ্বেতাঙ্গ, তাদের পেশাও বিভিন্ন—দমকলকর্মী, গাড়িচালক, সেনা, নিরাপত্তারক্ষী; এমনকি একজন সাংবাদিকসহ ডিজেও ডোমিনিক পেলিকোতের স্ত্রী জিসেল পেলিকোতকে ধর্ষণ করেছিলেন। আর এসব পুরুষদের আমন্ত্রণ জানাতেন ডোমিনিক নিজে। এমনকি তার স্ত্রীর ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করতেন। দীর্ঘ এক দশক ধরে তার স্ত্রী জিসেল পেলিকোতকে নিয়মিত মাদক দিয়ে অচেতন করতেন।
এরপর বিভিন্ন পুরুষকে বাড়িতে এনে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করাতেন। এই ঘৃণ্য অপরাধের জন্য তিনি অনলাইনে লোক খুঁজতেন এবং তাদের এই কাজে প্ররোচিত করতেন।
ডোমিনিক হার্ডডিস্কে ক্যাটালগ করা শত শত ভিডিও সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে ডোমিনিকের মেয়ের দুটি ছবিও ছিল।
৪৬ বছর বয়সী ড্যারিয়ান বলেছেন, তিনি স্পষ্টতই অজ্ঞান ছিলেন, অপরিচিত এক ভঙ্গিতে ঘুমাচ্ছিলেন এবং তিনি একটি অন্তর্বাস পরে আছেন, যা তার নিজের নয়। তবে ডোমিনিক পেলিকোত ছবিগুলো নিয়ে পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার মেয়েকে যৌন নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু মেয়ে ড্যারিয়ান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ছবিগুলো প্রমাণ করে যে, তার বাবা তাকে মাদক দিয়ে অচেতন করেছিলেন এবং ধর্ষণ করেছিলেন।
ড্যারিয়ান গত জানুয়ারিতে বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘আমি জানি যে তিনি (বাবা) আমাকে মাদকাসক্ত করেছিলেন, সম্ভবত যৌন নির্যাতনের জন্য।
কিন্তু আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই।’ যখন তিনি প্রথমবারের মতো পুলিশের কাছ থেকে সেই ছবিগুলো দেখিছিলেন তখন হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান।
এ ঘটনায় পুলিশ এখন তদন্ত শুরু করবে বলে জানা গেছে। প্রসিকিউটররা পরে সিদ্ধান্ত নেবেন বিচার শুরু করা হবে কি না। দোষী সাব্যস্ত ফরাসি ধর্ষক ডোমিনিক পেলিকোতের মেয়ে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তিনি তার বাবার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ ঘটনায় ডোমিনিক পেলিকোতের আইনজীবী বিট্রিস জাভারো ফরাসি মিডিয়াকে বলেছেন, ‘ড্যারিয়ানের অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত ‘অবিশ্বাস্য’। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, পূর্ববর্তী বিচারের প্রসিকিউটররা বলেছিলেন পেলিকোতকে তার মেয়ের ওপর ধর্ষণ এবং রাসায়নিক প্রয়োগের অভিযোগের প্রমান মেলেনি।
মায়ের ১৬ সপ্তাহের ওই বিচার চলাকালীন ড্যারিয়ান এবং তার বাবার মধ্যে আদালতকক্ষের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ছিল সবচেয়ে নাটকীয়, যা ফ্রান্স এবং বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছিল। ডমিনিক পেলিকোত চিৎকার করে তার মেয়ে ড্যারিয়ানকে বলছিলেন, ‘আমি কখনো তোমাকে স্পর্শ করিনি, কখনোই না। তুমি মিথ্যা বলছো!’
ড্যারিয়ান পূর্বে বলেছিলেন, তিনি নিজেকে বিচারের জন্য ‘ভুলে যাওয়া এক শিকার’ বলে মনে করেন, যেমনটি তার মায়ের ক্ষেত্রে হয়নি। কারণ তার ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার কোনো রেকর্ড ছিল না।
ড্যারিয়ান বলেন, মায়ের ঘটনায় বিচারের পর থেকে তিনি অতল শূন্যতা এবং অবিচারের অনুভূতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। যা তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলে।
তিনি বলেন, মাদকাসক্ত হওয়ার পর যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের পক্ষে তিনি থাকতে চান। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘একজন ভুক্তভোগী হিসেবে আমার মর্যাদার স্বীকৃতি প্রয়োজন। আমি জানি যে পথ এখনও দীর্ঘ।’ এই সপ্তাহে দায়ের করা অভিযোগটি সকল ভুক্তভোগীর কাছে পাঠানো একটি বার্তা হবে বলে তিনি জানান।
সূত্র: এএফপি











































