সংগৃহীত ছবি
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র বিছানাকান্দিতে ঘুরতে গিয়ে গোসলে নেমে নিখোঁজ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্ত বণিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।এ নিয়ে গত তিন মাসে সিলেটের দুটি পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল শাবিপ্রবির দুই শিক্ষার্থীর।
শান্ত বণিক শাবিপ্রবির ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তেল ও খনিজ প্রকৌশল (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী বাজার এলাকায়।
শান্ত বণিকের সহপাঠীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএমই বিভাগের ১০ থেকে ১১ জন শিক্ষার্থীর একটি দল বিছানাকান্দি এলাকায় ঘুরতে যান।সেখানে পৌঁছার পর বিকাল পৌনে ৫টার দিকে স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটার সময় হঠাৎ পানির স্রোত বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে প্রবল স্রোতে শান্ত তলিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। পরে তারা নৌকা নিয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।খবর পেয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও গোয়াইনঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। খবর দেওয়া হলে সিলেট থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল রওনা দেয়। তারা সন্ধ্যার পর নিখোঁজ শিক্ষার্থী শান্তকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এসব তথ্য কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী।তিনি বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ার পরই নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে তৎপর হই। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সিলেট থেকে রওয়ানা দেন। তারা উদ্ধার অভিযানে নামার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার হয়।’
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখালে ঘুরতে গিয়ে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুসআব আমীন। পরে তার লাশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মুসআব আমীন ও শান্ত দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে মুসআব আমীন সাঁতার না জানলেও শান্ত বণিক সাঁতার জানতেন।
তিন মাসের ব্যবধানে দুইজন মেধাবী শিক্ষার্থী হারিয়ে পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শান্তর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘শান্ত বণিকের মৃত্যু শাবিপ্রবি পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সে ছিল একজন মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী। তাঁর এই অপ্রত্যাশিত প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।’











































