এবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তুলোধুনো করলেন ঋত্বিক

ঋত্বিক চক্রবর্তী

ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে উত্তপ্ত গোটা এশিয়া। উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে দুই দেশে। দম ফেলার সুযোগ নেই, এমন উত্তেজনায় ব্যস্ত দুই দেশের মিডিয়াও। তবে ভারতের সংবাদমাধ্যম নিয়ে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে খোদ ভারতীয়দের মাঝে।

দেশটির গণমাধ্যম ও টিভি চ্যানেলগুলো নিত্যনতুন মুখরোচক সংবাদ পরিবেশন করে ঝড় তুলে যাচ্ছে। বিদঘুটে উপস্থাপনা, চিৎকার চেঁচামেচি- সব মিলিয়ে ভারতের সংবাদ উপস্থাপনের পদ্ধতি বেশ আলাদা অন্যান্য দেশের চেয়ে। যা অনেক ভারতীয় নাগরিকেরই পছন্দ নয়।

সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা নিজ দেশের মিডিয়াকে ‘সার্কাস’ বলে অভিহিত করেছেন।

এবার ভারতের মিডিয়াকে একহাত নিলেন কলকাতার গুণী অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। শনিবার (১০ মে) ফেসবুকের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ঋত্বিক লেখেন, ‘আমাদের এখানে নিউজ চ্যানেলগুলো কি ভালো ফিকশান কন্টেন্ট বানাচ্ছে!’ 

রসিকতার আড়ালে তিনি মূলত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের পাক-ভারত যুদ্ধের খবর অতিরঞ্জিত করে প্রচারের বিষয়টিকে কটাক্ষ করেছেন। পোস্টের কমেন্ট বক্সে নেটিজেনদের মন্তব্যে এর ইঙ্গিত মিলেছে।

এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘অনেক মানুষ এখনও বিশ্বাস করছে না যে ভুল খবর/ ছবি/ ভিডিও দেখানো হয়েছে।

’ আরেক নেটিজেন লিখেছেন, ‘তাও ভিডিও গেম-এর ফুটেজ দিয়ে।’ কেউ লিখেছেন, ‘উড়ন্ত সব জোকার।’

ঋত্বিকও এসব মন্তব্যে সাড়া দিয়ে জানান, ‘ভিএফএক্স বা মিউজিকের ঘাটতি থাকলেও সঞ্চালকদের প্রাণঢালা অভিনয় মনে থাকবে বহুদিন।’ অভিনেতার এই ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গি আবারো স্পষ্ট করে দেয়, ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যম যেভাবে সেনসেশন তৈরি করে খবর পরিবেশন করছে, তা শুধু বিতর্ক নয়, অনেকে তা বিনোদনের উৎস হিসেবেও দেখছেন।

এর আগেও ভারতের রিপাবলিক বাংলার সমালোচিত সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষকে কটাক্ষ করে ‘গাধা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ঋত্বিক।অভিনেতা ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “ধরুন একটা গাধার নাম দিলেন ময়ূর আর তাকে কালারফুল করতে পাশে বসালেন রঞ্জন, তাহলে পুরোটা হল ‘ময়ূররঞ্জন’।”

সেই পোস্টটিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে পড়ে। কেউ কেউ একে বছরের সেরা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট বলেও অভিহিত করেছেন। অনেকেই বুঝে নেন, এ কথার নিশানায় রয়েছেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষই। 

সাম্প্রতিক সময়ে বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সার্কাস বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। তাদের সংবাদ পরিবেশনের ধরন দেখে যে অভিনেত্রী বিরক্ত, তা প্রকাশ করতে একটু দ্বিধাবোধ করেননি। অভিযোগ তোলেন ভুয়া ফুটেজ, ছবি দিয়ে তথ্যবিভ্রাট, অতিনাটকীয় শব্দগঠন ও সংবাদ কর্মীদের চিৎকার-চেঁচামেচি দিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর।

LEAVE A REPLY