হরমুজ প্রণালি দিয়ে শিগগিরই আসছে ৬ বাংলাদেশি জাহাজ

ফাইল ছবি : রয়টার্স

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মাত্র এক মাসে প্রায় ৫৯ শতাংশ বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম, যা ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে এর মধ্যে পারস্য উপসাগরে থাকা ৬ বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত সময়ে হরমুজ প্রণালি পারাপারে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদী।

বুধবার (১ এপ্রিল) দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।

ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাহাজগুলো পার করার বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হলেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় সেগুলো চিহ্নিত করতে পারেনি তেহরান। গত সপ্তাহে পাওয়া তথ্য নিয়ে এখন জাহাজগুলো পার করার প্রক্রিয়া চলছে। আমি আশা করি, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো দ্রুত হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করবে।

ফলে বাংলাদেশের জ্বালানির কোনো সংকট থাকলে সেটার সমাধান হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে ওই সব জাহাজের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এবং কোন ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করে, কোন রুটে আছে, সবগুলো আমরা চেয়েছিলাম, সেগুলো আমরা পেয়েছি। এটা নিয়ে কাজ চলছে।’

বাংলাদেশের জাহাজগুলোকে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশি ৬টি জাহাজের কথা আমাদেরকে জানানো হয়েছে।

আমরা তেহরানকে এটা জানিয়েছি। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার কাউন্সিল অনুমোদন দিয়েছে এই জাহাজগুলোকে সহায়তা করার জন্য। কিন্তু এই জাহাজগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমাদের হাতে না আসার কারণে আমরা প্রথমে চিহ্নিত করতে করতে পারিনি।’

জাহাজের বিস্তারিত তথ্য গত সপ্তাহে হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘এটা আমরা তেহরানের কাছে পাঠিয়েছি এবং এটি নিয়ে কাজ চলছে।

বাংলাদেশের এই জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা করার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তাতে অস্থির হয়ে উঠেছে জ্বালানি বাজার। জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান, তাতে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই তেল ও গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় এই প্রণালিটি দিয়ে। তীব্র বিমান হামলার মধ্যেও অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজকে পারস্য উপসাগরের এই জলপথ অতিক্রম করতে দেয়নি তেহরান। শুধুমাত্র ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশগুলোর তেলবাহী জাহাজ পারাপার হতে পারছে।

ইরান একাধিকবার বলেছে, তাদের শত্রুপক্ষ ও শত্রুকে সহায়তা দেওয়া দেশের বাইরে অন্যরা এই পথ ব্যবহার করতে পারবে। তবে এর মধ্যে সাম্প্রতিক হরমুজ প্রণালি পার হতে দেওয়ার তালিকায় বাংলাদেশ থাকার কথা বলেছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি এ কথাটা বলেছেন, আপনারা দেখেছেন। আমরা যতদিন আছি, এই অঞ্চলে আমাদের মুসলিমদের বিন্দুমাত্র কষ্ট ভোগ করতে কোনো দিন হতে দেব না। তারপরও উত্তেজিত এই পরিস্থিতির মধ্যে যদি অনিচ্ছাকৃত কোনো অসুবিধা হয়ে যায়, সেটা এই দেশের মানুষ বুঝবে বলে আশা করি।’

জালিল রাহিমি জাহানাবাদী বলেন, ‘বাংলাদেশিদের নিরাপদে ফেরানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।’

LEAVE A REPLY