নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি, অস্বস্তিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা

বাজারে মাছ, মুরগিসহ সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। গত কয়েক দিনের তুলনায় প্রতিটি সবজির দাম এখন কিছুটা বেড়ে গেছে বাজারে। নিত্যসামগ্রীর দাম বাড়লেও মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি। ফলে খরচ বাঁচাতে নানা জায়গায় কাটছাঁট করছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

আজকের বাজারে প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, বরবটি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, বাঁধা কপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সজিনা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর খিলক্ষেতে বাজার করতে আসা ইমরান রহমান বলেন, বাজার করতে এসে দেখি বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বেশি। গত সপ্তাহে যে দাবে সবজি কিনেছি, সেই তুলনায় আজ সব সবজির দাম বেড়েছে। সব ধরনের সবজির দাম বাজারে বাড়তি দেখা যাচ্ছে। 

বিক্রেতারা বলছেন জ্বালানির অপ্রতুলতার কারণে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। সে কারণে সবজির দাম বেড়েছে বাজারে। 

সবজির দাম বৃদ্ধি বিষয়ে মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা রহমান বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির কেনা দাম আগের তুলনায় আমাদের বেশি পড়ছে। এর মূল কারণ জ্বালানি তেলের কারণে পরিবহণের খরচ বেড়েছে। এ ছাড়া অনেক সবজির মৌসুম এখন শেষ হয়ে যাচ্ছে, নতুন করে আবার সবজি উঠতে শুরু করবে। সব মিলিয়ে বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম হওয়ায় সবজির দাম কিছুটা বাড়তি যাচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় আজ প্রতিটি সবজি ভেদে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তাই বাজারে আজ কিছুটা বাড়তি দামেই সব সবজি বিক্রি হচ্ছে। আশা করা যায় আগামী কিছুদিনের মধ্যে হয়তো সবজির দাম ফের কমে আসবে। 

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে সোনালি মুরগির এমন চড়া দাম রয়েছে। একপর্যায়ে ৪৫০ টাকা দামও উঠেছিল। গত এক মাসের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে অন্তত ১০০ টাকা বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় দেড়শত টাকা। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি দামও কেজিতে ২০ টাকা বেশি রয়েছে। তবে ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

বিক্রেতারা জানান, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বাড়ায় লোকসানে পড়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক খামারি সোনালি মুরগি পালন কমিয়েছেন। এ ছাড়া রোগের আক্রমণেও অনেক মুরগি মারা যায়। ফলে বর্তমানে সোনালি মুরগির সরবরাহ–সংকট থেকে দাম বেড়েছে। ক্রেতারা অবশ্য এ যুক্তি মানছেন না। কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা আবু নাইম বলেন, হঠাৎ করে সোনালি মুরগির দাম ১০০ টাকার বেশি বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ–সংকটের সুযোগ নিয়ে অন্যায্যভাবে দাম বাড়িয়েছেন। তাদের কারসাজি ছাড়া একবারে এত দাম বাড়ার কথা নয়।

বাজারে আকারভেদে প্রতি কেজি তেলাপিয়া, কই ও পাঙাশ মাছ ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের চাষের চিংড়ির কেজি ৮০০ টাকা। আর চাষের শিং, পাবদা ও পোয়া মাছ বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে।

LEAVE A REPLY