একটা সারপ্রাইজ আছে, এখন বেশি কিছু বলা যাবে না

বালাম

সংগীতশিল্পী বালামের গান ও সংগীতে বরাবরই মুগ্ধ শ্রোতারা। তার ভক্তের সংখ্যাও অগনিত। প্রথমে ব্যান্ড, পরে একক শিল্পী-দুই ভাবেই সাফল্য পেয়েছেন বালাম। মাঝে কয়েক বছর সংগীত জগত থেকে দুরে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও গানে ঝড় তুলেছেন এ গায়ক।

এখন চলচ্চিত্রেও গাইছেন নিয়মিত। ঈদুল আজহার ছবি ‘নীলচক্র’তে গেয়েছেন। আবার আছেন অভিনয়েও! এ সংগীতশিল্পীর সঙ্গে কথা বলেছেন কামরুল ইসলাম।

নীলচক্র ছবির গান এই শহরের অন্ধকারে প্রকাশিত হয়েছে।

এর সংগীতায়োজন করেছেন আপনি। গানটি নিয়ে আপনার কাছ থেকে শুনতে চাই…

এই গানে র‌্যাপার শাফায়াতকে আমি ফিচার করেছি। লেখা শাফায়াতের, গেয়েছেও সে। ভিন্ন ধাঁচের গান এটি।

ছবির গল্পের স্বার্থেই এটি করা হয়েছে। শ্রোতাদের কেউ কেউ হয়তো অবাক হচ্ছেন। আসলে সিনেমার গান করতে গেলে তো পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা থাকে না, ছবির গল্প, চরিত্র অনেক কিছু বিবেচনা করে গান বানাতে হয়। ‘এই শহরের অন্ধকারে’ এই ছবির গল্পের সঙ্গে কানেক্টেড, দর্শক ছবিটা দেখলেই সেটা বুঝতে পারবেন।

শাফায়াত হিপহপ গান করেন।এই জনরার গান নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন?

যেহেতু মিউজিশিয়ান, সব ধরনের গানই শুনি। মিউজিকে তো কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এ রকম গান আগে করিনি। কেন গানটা করছি, সেটার একটা কারণ কিংবা কানেকশন থাকা জরুরি। হঠাৎ আমার সলো গান হিসেবে করলে শ্রোতারা হয়তো সহজে নিতে পারতেন না।

নীলচক্রতে কি আপনার আর কোনো গান রয়েছে?

হ্যাঁ, আরেকটা গান আছে। সেটাও ভিন্ন আঙ্গিকের। এটা আমি গেয়েছি। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন, সুর ও সংগীত আমার। এটাও শিগগিরই প্রকাশিত হবে।

এই ছবিতে অভিনয়ও করেছেন শুনলাম…

ঠিক অভিনয় কি না, বুঝতে পারছি না। তবে হ্যাঁ, একটা সারপ্রাইজ আছে। এর বেশি কিছু এখন বলা যাবে না।

ঈদে আর কোনো গান আসবে?

দু-একটা গান করেছি, তবে ঈদে আসবে কি না, শিওর নই। সিনেমার একটি গান করেছি কোনালের সঙ্গে। খুবই সুন্দর রোমান্টিক গান। ওটা অবশ্য এই ঈদে আসবে না। তবে গানটা দারুণ হয়েছে। শ্রোতাদের ভালো লাগবে।

আপনার নিজের গানের ব্যস্ততা কেমন?

অনেক গানের কাজ অর্ধেক করে রেখে দিয়েছিলাম। সেগুলো এক এক করে সম্পূর্ণ করছি। কয়েকটা গানই প্রস্তুত হয়েছে। এই ঈদে একটা প্রকাশ করতে পারি। আসলে আমরা তো মিউজিশিয়ান, চেষ্টা থাকে ভিন্ন ধাঁচের গান করতে। একই ধরনের গান করতে করতে আমরাও বিরক্ত হয়ে যাই। তবু শ্রোতাদের ভালোলাগার কথা ভেবে কিছু গান করতে হয়। নিজের গানগুলোতে দুটি দিকই সমন্বয় করার চেষ্টা করছি।

কনসার্টে আপনাকে কমই পাওয়া যায়। কেন?

ইচ্ছাকৃত কম করি, ব্যাপারটা এমন নয়। আসলে লাইভ কনসার্টের ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিষয় ভাবতে হয়। স্টেজ, সাউন্ড, পারিশ্রমিক সব কিছু মিলিয়ে জুতসই হলে তবেই কনসার্ট করি। শুধু করার জন্য কনসার্ট করলেই তো হয় না, প্রপারলি করা উচিত। তাই আমার কনসার্টের সংখ্যা কম। কিছু শোয়ের ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে, দেখা যাক।

ব্যান্ডের সময়টা মিস করেন? আপনাকে নিয়ে কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে ব্যান্ড কমিউনিটিতে মাঝেমধ্যেই চর্চা হয়, তারা আপনাকে মিস করে…

হ্যাঁ, এখনো মিস করি। ইনফ্যাক্ট আমি কনসার্টে যে পারফরম্যান্স করি, সেটা ব্যান্ডের বালাম হয়েই করি। ‘রেনিগেডস’ ব্যান্ড দিয়ে আমার পথচলা শুরু। এরপর ‘ওয়ারফেজ’-এ ছিলাম আট বছর। পরে একক ক্যারিয়ারে শিফট হলেও ব্যান্ডের স্মৃতি, মনোভাব রয়ে গেছে। এখন স্টেজে শ্রোতারা হয়তো একক শিল্পী বালামকে দেখেন; কিন্তু আসলে ব্যান্ডের বালামই স্টেজে ওঠে। সেই রকিং ব্যাপারটা এখনো আমার মধ্যে চলে আসে।

LEAVE A REPLY