ছবিসূত্র : এএফপি
তুরস্কের একটি আদালত ইলন মাস্কের কম্পানি এক্সএআই-এর তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই চ্যাটবট এমন কিছু উত্তর তৈরি করেছে, যা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে অপমানের সমান।
তুরস্কে এটিই প্রথমবার কোনো এআই টুলের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা। রাজধানী আংকারার প্রধান সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর জানিয়েছে, এ ঘটনায় তারা একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
এআই চ্যাটবট নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষপাত, ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২২ সালে ওপেন এঅঅই-এর চ্যাটজিপিটি চালুর পর থেকেই এই ইস্যুগুলো সামনে এসেছে। গ্রোক নিয়ে এর আগেও বিতর্ক উঠেছিল—তাতে কখনো অ্যান্টিসেমিটিক মন্তব্য, কখনো নাৎসি নেতা আডলফ হিটলার-এর প্রশংসা দেখা গিয়েছিল।
তুরস্কের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কর্তৃপক্ষ (বিটিকে) আদালতের রায় অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে।
কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, তুরস্কে প্রেসিডেন্টকে অপমান করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, এই আইনটি প্রায়ই মত প্রকাশের স্বাধীনতা দমন করতে ব্যবহার করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা রক্ষা করতেই এ ধরনের আইন প্রয়োজন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গ্রোককে তুর্কি ভাষায় কিছু প্রশ্ন করা হলে, সে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সম্পর্কে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করে।
এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত গ্রোক-এর মূল প্ল্যাটফর্ম এক্স কিংবা এর মালিক ইলন মাস্ক কোনো মন্তব্য করেননি। গত মাসেই মাস্ক ঘোষণা দিয়েছিলেন, গ্রোক-এর নতুন আপগ্রেড আসছে। তিনি বলেছিলেন, ‘যেকোনো ফাউন্ডেশন মডেল অপরিশোধিত তথ্যের ওপর ট্রেনিং দিলে অনেক ‘আবর্জনা’ ঢুকে পড়ে। সেটাই ঠিক করতে হবে।’ এই ঘটনার পর তুরস্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—এই দুইয়ের দ্বন্দ্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে গ্রোক বিতর্ক।











































