তারা যদি ‘দুর্গা’ হতেন

আসছে শারদীয় দুর্গাপূজার মৌসুম। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা টানা পাঁচ দিন মেতে থাকবেন দুর্গা মায়ের বন্দনায়। দুর্গা মানে শক্তি, দুর্গা মানেই অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভর প্রতিষ্ঠা। বিনোদন জগতের নারী তারকারা যদি মা দুর্গা হতেন তাহলে কোন অশুভ শক্তির বিনাশ করতেন তাঁরা? শুনেছেন হৃদয় সাহা।

মানুষের মনের হিংসা দূর করতাম || অপু বিশ্বাস অভিনেত্রী

এটা আসলে কঠিন প্রশ্ন, দেবী দুর্গা অশুভ শক্তি নাশ করেন। তবে অশুভ যে ঘটনাগুলো ঘটে, তার উদয় হয় হিংসা থেকে। একজন মানুষের প্রতি আরেকজন মানুষের মনের ভেতর যে হিংসা লালন করে, তা থেকেই সে অপরের ক্ষতি করতে চায়। হিংসা থেকেই একে অপরের সম্পর্কের অবনতি হয়, বিপক্ষের উন্নতি হোক এটা চায় না।

 মনের ভেতর হিংসা লালনের কারণে সে নিজেও মানসিক শান্তিতে থাকতে চায় না। হিংসা দূর হলেই পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে।

মানুষের ঐক্য যারা ভাঙতে চায় তাদের সব প্রয়াস ধ্বংস করতাম || মৌটুসী বিশ্বাস অভিনেত্রী

দুর্গা মানেই নারীশক্তির আধার। হিন্দু ধর্মমতে স্বর্গ থেকে যখন দেবতারা সিংহাসনচ্যুত, তখন তাদের আহ্বানে মহিষাসুর বধের জন্য দুর্গার সৃষ্টি।

 বাস্তবিক জীবনেও একজন নারী একটি সংসারে দুর্গা হয়েই আসেন। ঘরে ও বাইরে দুই দিকই সমান সামলান। সংসারে শান্তি বজায় রাখার জন্য নিজের যা যা করা প্রয়োজন সবই তিনি করতে পারেন। তার মানে এই নয় তিনি আপস করে চলেন।প্রয়োজনে প্রতিবাদ করেন।

তবে আফসোস লাগে এই ভেবে, কতিপয় পুরুষ ভক্তিভরে পূজার প্যান্ডেলে যে দুর্গাদেবীকে শ্রদ্ধা করে আসেন, ঘরে যদি নিজের স্ত্রী, মা, বোন বা অন্য নারী সদস্যদের সেই সম্মান করতেন তাহলে নারীদের বঞ্চনা আরো অনেক কমে যেত।

আমি যদি দুর্গা হতাম, দেশের সরল মানুষের ঐক্য ও শান্তি যেন অক্ষুণ্ন থাকে সে প্রচেষ্টা চালাতাম। যুদ্ধ করে পাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশ। কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই দেশের মানুষের ঐক্য ভাঙতে চায়, তা ভাঙার সব প্রয়াস ধ্বংস করতাম। পাশাপাশি সামনের দিনগুলোতে যেন কালো মেঘ সরে গিয়ে আকাশ হয় নির্মল, মানুষ যেন বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে পারে, পেটভরে খেতে পারে, মাথার ওপর ছাদ থাকে—সেটার চেষ্টা করতাম। সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত এবং বিবেককে জাগ্রত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

যানজট ও বেকারত্ব দূর করতাম || বাঁধন সরকার পূজা কণ্ঠশিল্পী

আমি যদি দুর্গা হতাম, তবে এই মুহূর্তেই ঢাকার যানজট ও দেশের বেকারত্ব দূর করতাম। প্রথমেই বলি ঢাকার যানজটের কথা। শুধু পরিকল্পনামাফিক না হওয়ার কারণে মানুষের কী পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাতে হয় তা বলে বোঝানো যাবে না। আমাদের দিনের অনেকটা সময়ই এই যানজটে কাটিয়ে দিতে হয়। অপরদিকে বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে, তার কারণ জনসংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করা হচ্ছে না। বেকারত্ব থেকে হয় অবসাদ আর হতাশা, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

যুদ্ধকবলিত দেশের শিশুদের কষ্ট দূর করতাম || অবন্তী সিঁথি কণ্ঠশিল্পী

পৃথিবীজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহতা আমাকে আবেগাক্রান্ত করে। বিশেষ করে যখন দেখি কোনো শিশু সেই যুদ্ধের বলি হচ্ছে। অথচ এই যুদ্ধের পেছনে তার কোনো ভূমিকা নেই। সে জানেও না যুদ্ধ বলে পৃথিবীতে আদৌ কিছু আছে। তার চোখের জল, খাওয়ার জন্য হাহাকার কিংবা চোখের সামনে আপন মানুষের মৃত্যুর যে কষ্ট—নিষ্পাপ অনেক শিশুকে এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেবী দুর্গার আরেক নাম দুর্গতিনাশিনী। তিনি সবার দুর্গতি নাশ করেন। যদি আমি দুর্গা হতাম, তাহলে যুদ্ধকবলিত দেশের শিশুদের কষ্ট দূর করতাম। পৃথিবীর কোনো শিশু যেন কষ্ট না পায়, সেই চেষ্টা করতাম।

অশুভ চিন্তা ধ্বংস করতাম || ইন্দ্রানী নিশি উপস্থাপিকা-অভিনেত্রী

পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একে অপরের প্রতি যে ভক্তি, শ্রদ্ধা, সম্মান তা কমে গেছে। দিন দিন সমাজ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের মন, মস্তিষ্কে কোথাও যেন পচন ধরেছে। সহনশীলতার প্রচুর অভাব। যার কারণে সমাজে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। আমি এই অস্থিরতা বিনাশ করতে চাইতাম। সমাজের যেকোনো অশুভ কিছুর সৃষ্টি হয় অশুভ চিন্তা থেকে, তাই এই অশুভ চিন্তার যাতে উদয় না হয় সেই চেষ্টা করতাম। ঈশ্বর যদি কখনো আমাকে এই ক্ষমতা দেন কিংবা আমি কল্পনাতেও ভাবি, তাহলে এই সহনশীলতার অভাব, অশুভ চিন্তা থেকে মানবমনের যে জটিলতা আর অস্থিরতা তা ধ্বংস করতাম।

LEAVE A REPLY