হলিউডের তিন আইকনিক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফিরছেন শোয়ার্জনেগার

দীর্ঘ বিরতির পর হলিউডের রূপালি পর্দায় আবারও ঝড় তুলতে আসছেন অ্যাকশন কিংবদন্তি আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার। সম্প্রতি ওহাইওর কলম্বাসে অনুষ্ঠিত ‘আর্নল্ড স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল’-এ তিনি নিজেই ভক্তদের এ চমকপ্রদ খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

৭৮ বছর বয়সী এই অভিনেতা জানান, তার ক্যারিয়ারের তিন জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি— ‘কন্যান দ্য বারবেরিয়ান’, ‘কমান্ডো’ এবং ‘প্রিডেটর’-এ ফেরার বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

তবে রাজনীতি ও দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় ফিরলেও আগের মতো ৪০ বছর বয়সী কোনো যুবকের চরিত্রে অভিনয় করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক এই গভর্নর। তিনি বলেন, ‘স্ক্রিপ্টগুলো আমার বর্তমান বয়সের কথা মাথায় রেখেই লেখা হচ্ছে। আমি এখনো পর্দায় অ্যাকশন করব, তবে তা হবে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং একেবারেই ভিন্ন ধাঁচের।’

‘প্রিডেটর’ ও ‘কমান্ডো ২’ নিয়ে পরিকল্পনা 

আর্নল্ড জানান, ফক্স স্টুডিওস নতুন করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ‘প্রিডেটর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির পরবর্তী ছবির জন্য পরিচালক ড্যান ট্র্যাচেনবার্গ সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া আশির দশকের কালজয়ী অ্যাকশন সিনেমা ‘কমান্ডো’-র সিক্যুয়েল ‘কমান্ডো ২’-এর স্ক্রিপ্টও ইতোমধ্যে তৈরি বলে জানান তিনি।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ‘কিং কন্যান’ নিয়ে। টম ক্রুজের গত চারটি সিনেমার জনপ্রিয় একজন লেখক ও পরিচালককে এই প্রজেক্টের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিনেমার গল্প নিয়ে শোয়ার্জনেগার বলেন, ‘এটি ৪০ বছর ধরে রাজত্ব করা এক রাজার গল্প, যাকে ষড়যন্ত্র করে রাজ্য থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর তার ফিরে আসা এবং সেই সঙ্গে লড়াই, জাদু আর অদ্ভুত সব প্রাণীর সংঘাত—সব মিলিয়ে এক বিশাল আয়োজন।’

স্টুডিওর পক্ষ থেকে এই প্রকল্পগুলোর জন্য বিশাল বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আধুনিক স্পেশাল ইফেক্টস এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে এই সিনেমাগুলো আগের চেয়েও অনেক বেশি আকর্ষণীয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার তার ক্যারিয়ারে পরিচিতি পান ১৯৮২ সালে ‘কন্যান দ্য বারবেরিয়ান’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর ১৯৮৪ সালে ‘দ্য টার্মিনেটর’ তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়। আবারও এই আইকনিক চরিত্রগুলোতে তাকে দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি ভক্ত।

LEAVE A REPLY