কারো রিপ্লেসমেন্ট তো কেউ না

খায়রুল বাসার

নাটকের বাজার এখন আগের চেয়ে অনেকটাই কম। তবে কিছু কিছু উৎসবে দর্শকরা নাটক দেখতে চায়, দেখে। যার মধ্যে অন্যতম ভালোবাসা দিবস। নাটকের অন্যতম বড় উৎসব ভ্যালেন্টাইনস ডে।

তবে আগের মতো এবারের ভালোবাসা দিবসের নাটকের বাজার জমে ওঠেনি। তবু যে কয়জনের কাজ নিয়ে দর্শকের আগ্রহ-আলোচনা, তাঁদের একজন খায়রুল বাসার। অভিনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন কামরুল ইসলাম।

পর্দায় আপনার ভালোবাসা দিবস কেমন গেল?

অনেক কাজ করেছি, এমন না।

তবে বেশ কয়েকটি ভালো নাটক করেছি। ভালোবাসা দিবসের আগে আগে জুবায়ের ইবনে বকরের ‘এক কাপ চা’ মুক্তি পেয়েছে। আজ (গতকাল) এলো ‘সত্য মিথ্যার প্রেম’। সুন্দর গল্প।দেখলে সময়টা সুন্দর কাটবে। আর কাল (আজ) আসবে ‘বসন্তবৌরি’। যেটার জন্য দর্শক ভীষণ অপেক্ষায় আছে। আমি নিজেও অপেক্ষায়। প্রেমের গল্প, পারিবারিক আবহ আছে।কিশোর বয়সের প্রেম, আচমকা হারিয়ে যাওয়া, ফের দেখা হবে কি হবে না, এসব নিয়ে গল্প। মিশুক মিঠুর নির্মাণে আমার সহশিল্পী তানজিন তিশা। ২০ ফেব্রুয়ারি আসবে ‘যদি তোমারে না পাই’, নির্মাণে সেতু আরিফ।

কয়েক বছর আগেও ভালোবাসা দিবসের নাটক নিয়ে যে আমেজ ছিল, সেটা কি একটু কমেছে?

অবশ্যই কমেছে। তবে নাটক দেখার আমেজ কমেনি; বরং ভ্যালেন্টাইনের নাটক নেই বলেই আলোচনা কম। আগে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে নাটক হতো, চ্যানেলগুলোও করত আলাদা করে। এবার যতদূর জানি, পৃষ্ঠপোষকের সংকট। কিছু নাটক তৈরি হয়ে আছে, মুক্তি দেওয়া যাচ্ছে না সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়। ভ্যালেন্টাইন প্রজেক্টের একটা বড় জায়গা ‘ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প’। আমারও শুরুটা বলতে গেলে এখান থেকে। এবার সেটা নেই। তবু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও যতটা পারছি, চেষ্টা করে যাচ্ছি।

কেউ কেউ বলছেন, নাটকের পরবর্তী অপূর্ব-নিশো হয়ে উঠছেন আপনি। এমন মন্তব্য দেখে কেমন লাগে? 

বিভিন্ন নাটকের কমেন্ট বক্সে এ ধরনের মন্তব্য দেখি। আমাকে উৎসাহিতই করে। অপূর্ব ভাই, নিশো ভাই দুর্দান্ত পারফরমার। আমি যে চেষ্টা করছি, দর্শক যদি মনে করে, এর মাধ্যমে একটা পর্যায়ে তাঁদের জায়গায় যাওয়া সম্ভব, সেটা তো ভালোলাগারই বিষয়। কারো রিপ্লেসমেন্ট তো কেউ না। তবু মানের জায়গায়, গ্রহণযোগ্যতায় কেউ কেউ যখন তুলনা করেন, সেটা আমার জন্য অনুপ্রেরণার। ধরুন এটা একটা মিছিল, যেখানে অপূর্ব-নিশো ভাইদের আগে কেউ নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন, আবার তাঁদের পথ ধরে আমরাও এগোচ্ছি। সারকথা, ভালো নাটক হোক। নিজের জায়গা থেকে তো চেষ্টা করিই, আবার অন্যদের ভালো কাজ দেখলেও আনন্দিত হই, এই ভেবে যে ভালো কাজ হচ্ছে।

ব্যবসায় পরীমনি, চালু করলেন ‘বডি’

সামনে ঈদ। বিশ্রাম আর সহসা মিলছে না…

এখনো শুটিংয়ে আছি। রাফাত মজুমদার রিংকুর রোজার ঈদের নাটক। সহশিল্পী সামিরা খান মাহি। এক-দেড় মাস ধরে ভ্যালেন্টাইন ও ঈদ মিলিয়েই কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু নাটক এসেছে, আসবে। বাকিগুলো রোজার ঈদে। এমনও হতে পারে, কয়েকটা নাটক কোরবানির ঈদেও চলে যাবে। বলতে গেলে ঈদ পর্যন্ত শিডিউল আর ফাঁকা নেই।

সিনেমায় নতুন কিছু করছেন?

নাটকই করছি এখন। আসলে সিনেমার ডাক সেভাবে আসে না। যেগুলোর প্রস্তাব আসে, আমার পছন্দের সঙ্গে মেলে না। সামনে একটা করব, স্বাধীন ধারার ছবি; স্বেচ্ছাসেবীর মতো কাজটি করব। নির্মাতার কাছ থেকে ঘোষণা আসবে। আমি এখন বিস্তারিত না বলি। কোরবানির ঈদের আগেই শুটিং শুরু হবে।

‘সুগার ড্যাডি’র সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে

মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের বনলতা সেন তো আসি আসি করেও এলো না…

এ বছর মুক্তি পেতে পারে। গত বছরই মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। গণ-অভ্যুত্থানের কারণে সে পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন নির্মাতা।

ছবিটিতে আপনি জীবনানন্দ দাশের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এমন লোভনীয় চরিত্রে অভিনয় করা এবং জীবনানন্দকে নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত ভাবনা জানতে চাই…

কোন চরিত্র করেছি, সেটা আমি না বলি। আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এটুকু বলি, জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী ছবি। জীবনানন্দকে নিয়ে নির্মিত ছবিতে কাজ করা নিঃসন্দেহে আমার জন্য সৌভাগ্যের এবং স্বস্তির। তিনি আমার খুবই প্রিয় কবি। তাঁর কবিতা পড়ে ভাবনার গভীরতা তৈরি হয়। প্রথমে অবশ্য বুঝতাম না। ধীরে ধীরে যখন বুঝতে শুরু করলাম, তখন সেই কবিতাগুলোর ভাবনায় আরো ডুবে গেলাম। নিজ থেকেই নানা বিশ্লেষণ খুঁজে পেলাম। আমার বিশ্বাস, ছবিটা দর্শককে একটা ভিন্ন ঘোরের জগতে নিয়ে যাবে। চিত্রায়ণ, মিউজিক সব কিছু মিলিয়ে দুর্দান্ত হয়েছে ছবিটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ক্যাম্পাসে আগে যেমন ইচ্ছামতো ঘুরতেন, এখন কি সে সুযোগ হয়?

ব্যস্ততার কারণে আগের মতো যাওয়া হয় না। ঢাবির ক্যাম্পাস তো আমার উঠোন ছিল। সেখানেই হেঁটে-চলে বড় হওয়া। যতটুকু বোধ-বুদ্ধি, শেখা সবই সেখান থেকে। এভাবে বলা যায়, ক্যাম্পাসটাকে আমি দারুণভাবে ইউটিলাইজ করতে পেরেছি। কয়েক দিন আগে গিয়েছিলাম। তবে যাওয়ার আগে ভাবি, বন্ধুরা তো এখন নেই। আমার চার-পাঁচ বছরের জুনিয়র যারা, তাদেরও পড়াশোনা শেষ। তবু ক্যাম্পাসে গেলে নতুনরা এসে পরিচিত হতে চায়, আগ্রহ-ভালোবাসা দেখায়। সিনিয়র-জুনিয়রের অধিকারবোধ এখনো আছে, দেখে ভালো লাগে।

LEAVE A REPLY