ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনার আশ্বাস সত্ত্বেও ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ ক্রমাগত ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের বিশ্লেষক মোহাম্মদ এলমাসরি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করেছেন যে, সংঘাত যেভাবে তীব্রতর হচ্ছে তাতে আলোচনার মাধ্যমে কোনো মীমাংসায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
তার মতে, উভয় পক্ষই এখন যুদ্ধের চরম শিখরে ওঠার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, যা কূটনীতির পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
বিশ্লেষক এলমাসরি যুক্তি দেখিয়েছেন, ইসরাইল নিজেই এই উত্তেজনাকে উসকে দিচ্ছে এবং দেশটি আসলে এই যুদ্ধের কোনো দ্রুত সমাপ্তি বা নিষ্পত্তি চায় না। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলার কথা উল্লেখ করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হামলা বিলম্বিত করার প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল ইরানের ইস্পাত কারখানা এবং জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হেনেছে। এমনকি বর্তমানে এই হামলা আবাসিক এলাকা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
ইরান এই হামলার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলমাসরি মনে করেন, বর্তমানে দুই পক্ষ যে প্রস্তাবনা নিয়ে এগোচ্ছে তার মধ্যে আসমান-জমিন ব্যবধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার প্রস্তাবটিকে তিনি একটি ‘আত্মসমর্পণ দলিল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যার বিপরীতে ইরানের ৫ দফার প্রস্তাবনার কোনো মিল নেই।
ফলে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক বৃহত্তর এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকেই ধাবিত হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা।










































