প্রায় ছয় মাস লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
তিনি শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা পদগুলোতে একঝাঁক কট্টরপন্থি ও প্রবীণ সামরিক কমান্ডারকে নিয়োগ দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, চলতি মাসের এ রদবদল ইঙ্গিত দেয়-তিনি দেশকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখতে চান।
সোমবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, তেহরান এমন একটি পথ খুঁজছে, যার মাধ্যমে অর্জিত কৌশলগত সুবিধা-বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া না করেই যাতে যুদ্ধের অবসান ঘটানো যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত বা সংঘর্ষের তীব্রতা কিছুটা কমেছে, তবুও হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ওয়াশিংটন বা তেহরান-কারও মধ্যেই ছাড় দেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমাও সোমবার শেষ হয়ে গেছে।
এ অচলাবস্থা পুরো অঞ্চলকে এমন এক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির দেওয়া নিয়োগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-মোহসেন রেজাই, যিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর’-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান করা হয়েছে।
এছাড়া হোসেইন তায়েব একজন ধর্মীয় নেতা ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধান। তাকে ‘বাসিজ’ বাহিনীর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাসিজ হলো আধাসামরিক বাহিনীর একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, যা প্রায়শই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যবহৃত হয়।
এই রদবদলের আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর নতুন জেনারেল স্টাফ, রেভল্যুশনারি গার্ডসের নতুন প্রধান এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের নৌবাহিনীর কমান্ডারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে নৌবাহিনীর কমান্ডারের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে।










































