ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র? কী বলছেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সহায়তার ডাকে সাড়া না দেওয়ার এবার উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংগঠন বা ন্যাটো জোট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

বুধবার টেলিগ্রাফের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আলজাজিরা এ তথ্য জানায়। 

টেলিগ্রাফের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো জোটকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবেন কিনা—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনার বাইরে’ চলে গেছে।

ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমি কখনোই ন্যাটোর দ্বারা প্রভাবিত হইনি। আমি বরাবরই জানতাম যে তারা কাগুজে বাঘ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বিষয়টি জানেন।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ন্যাটো মিত্রদের সমর্থনের অভাব নিয়ে নিয়মিত সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প।

হরমুজ প্রণালিতে সেনা পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য তিনি তাদের ‘কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করেছেন। দ্য টেলিগ্রাফকে তিনি পুনরায় এই অভিযোগ তুলে ধরেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, সমর্থন ‘স্বয়ংক্রিয় হওয়া উচিত ছিল।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেখানে ছিলাম, ইউক্রেনও এর অন্তর্ভুক্ত।

আমরা তাদের জন্য সেখানে ছিলাম এবং সবসময়ই তাদের জন্য থাকতাম। কিন্তু তারা আমাদের জন্য ছিল না।’

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মিত্র দেশগুলোর উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘তোমাদের নিজেদের দায়িত্বে লড়াই করতে শিখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আর তোমাদের সহায়তায় থাকবে না।

শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় মিত্রদেরও কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো হরমুজ প্রণালির আশপাশে জেট ফুয়েল পাচ্ছে না—এমন পরিস্থিতিতে তাদের আরো সাহসী হয়ে উঠতে হবে এবং ওই অঞ্চলে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ন্যাটো জোটের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো মূল সদস্য দেশটি জোট ছাড়লে তা সামরিক জোটের ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে  হোয়াইট হাউস বা ন্যাটো সদর দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। 

LEAVE A REPLY