ন্যাটোর সদস্যপদ বাতিলের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

ন্যাটোর সদস্যপদ থেকে স্পেনকে স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে—এমন খবরকে ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সাইপ্রাসে আয়োজিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় তিনি গণমাধ্যমের কাছে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

সম্প্রতি পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইল ফাঁস হওয়ার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই ইমেইলে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্পেনকে ন্যাটো থেকে স্থগিত করার মতো কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। 

মূলত ইরান অভিযানে মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় মাদ্রিদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে ওয়াশিংটন।

পেন্টাগনের এই কথিত পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেন, আমরা কোনো ইমেইলের ওপর ভিত্তি করে কাজ করি না; আমরা কাজ করি সরকারি নথিপত্র এবং অবস্থানের ভিত্তিতে। তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে জানান, স্পেনের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। স্পেন তার মিত্রদের সাথে পূর্ণ সহযোগিতায় বিশ্বাসী, তবে তা অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে হতে হবে।

সানচেজ আরও জোর দিয়ে বলেন, স্পেন ন্যাটোর একটি অনুগত অংশীদার এবং জোটের প্রতি তার সমস্ত প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালন করে আসছে। ইরান সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অভিযানে শরিক না হওয়াকে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেন। 

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের প্রতিরক্ষা বাজেট মোট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত না করা এবং ইরান অভিযানে সহযোগিতা না করায় তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে তার সম্মতি ছাড়া বহিষ্কার বা স্থগিত করার আইনি সুযোগ নেই, কারণ জোটের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সব সদস্যের সর্বসম্মত সম্মতির ভিত্তিতে নিতে হয়। ফলে পেন্টাগনের এই ইমেইলটি মূলত মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

LEAVE A REPLY