সংগৃহীত ছবি
অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘আউকাস সাবমেরিন চুক্তি’ নিয়ে স্বাধীন তদন্ত শুরু হয়েছে। জনঅর্থায়নে পরিচালিত এই তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির সাবেক পরিবেশমন্ত্রী এবং জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ‘মিডনাইট অয়েলের’ সাবেক প্রধান গায়ক পিটার গ্যারেট।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, এই তদন্তে আউকাস চুক্তির অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রভাব খতিয়ে দেখা হবে।
প্রতিবেদনে পিটার গ্যারেট বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও এটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা, বিতর্ক করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংসদ ও জনগণের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
প্রায় ৩৬৮ বিলিয়ন (৩৬ হাজার ৮০০ কোটি) অস্ট্রেলীয় ডলার ব্যয়ের এই প্রকল্পের আওতায় অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন কিনে তাদের পুরোনো নৌবহর প্রতিস্থাপন করবে।
পাঁচ মাসব্যাপী এই তদন্ত কমিশনে গ্যারেটের সঙ্গে রয়েছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স (এডিএফ) প্রধান অ্যাডমিরাল ক্রিস ব্যারি, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রিমিয়ার কারমেন লরেন্স এবং আদিবাসী অধিকারকর্মী কারেন লেস্টারসহ মোট ৫ জন কমিশনার।আগামী অক্টোবর মাসে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে।
এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডেভিড পকক ও অ্যান্ড্রু উইলকি। এছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, মানবাধিকার আইনজীবী ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারাও তদন্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন সংগ্রহ সত্যিই অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা বাড়াবে কি না, চুক্তি অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত সাবমেরিনগুলো আদৌ পাবে কি না, পারমাণবিক বর্জ্য কোথায় সংরক্ষণ করা হবে এবং এই চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর আউকাস চুক্তির প্রভাবও তদন্তের আওতায় থাকবে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে আউকাস নিরাপত্তা জোট ঘোষণা করা হয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। চীন শুরু থেকেই এই চুক্তিকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে সমালোচনা করে আসছে।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকার চুক্তিতে কিছু পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনটি ব্যবহৃত সাবমেরিন কিনবে। এর আগে অন্তত একটি নতুন সাবমেরিন পাওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৭ সাল থেকে চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থে সীমিত সংখ্যক পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েন করতে পারবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর আউকাস চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও গত জুনে এই চুক্তির পৃথক পর্যালোচনা শুরু করেছিল। এখন অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া স্বাধীন তদন্ত আউকাসের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।








































