রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে কড়াকড়ি, ভারতসহ ৫ দেশর জন্য নতুন মার্কিন বিল

ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে গেলে ভারতসহ পাঁচটি দেশ অতিরিক্ত শুল্ক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে পারে।

বিল অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারবে। ব্লুমেনথাল যে পাঁচটি দেশের নাম উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো, চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান।

মঙ্গলবার সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল, জিন শাহিন, রজার উইকার, কেটি ব্রিট এবং উভয় দলের আরো কয়েকজন আইনপ্রণেতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম রাশিয়া অ্যাকাউন্টেবিলিটি বিল’।প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি বিলের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিলটির সঙ্গে তার নাম যুক্ত করা হয়েছে।

সিনেটর ব্লুমেনথাল বলেন, এই বিল শুধু শুল্ক আরোপের বিষয় নয়। এর মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি ও আর্থিক খাত, প্রতিরক্ষা শিল্প, ধনী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

এ ছাড়া রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে ১৫ শতাংশের কম গ্যাস আমদানি করে এবং সেই আমদানি কমিয়ে আনছে, তারা এই বিধানের বাইরে থাকবে। ফলে ইউরোপের বেশিরভাগ মিত্র দেশ এ থেকে অব্যাহতি পাবে।

সিনেটররা জানিয়েছেন, শুল্কের হার এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। এটি পরে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ঠিক করবেন।তবে ব্লুমেনথাল বলেছেন, শুল্ক এমন মাত্রায় নির্ধারণ করা হতে পারে যাতে চীন, ভারত ও অন্যান্য বড় ক্রেতা দেশ রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা নিরুৎসাহিত হয়। বিলটিতে শুল্ক মওকুফের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে শুল্ক কমানো হলে সে বিষয়ে কংগ্রেসকে জানাতে হবে।

সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান জেমস রিশ রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাংকার বহরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, রাশিয়া এসব ট্যাংকার ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে।

আইনপ্রণেতারা বলেছেন, আগের খসড়াগুলোর তুলনায় বর্তমান বিলটি অনেক সীমিত। আগে সর্বোচ্চ ৬৩টি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ছিল, কিন্তু এখন তা কমিয়ে মাত্র পাঁচটি প্রধান ক্রেতা দেশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিলটি ঘোষণার সময় অনেক সিনেটর প্রয়াত লিন্ডসে গ্রাহামের অবদানের কথা স্মরণ করেন। সিনেটর রজার উইকার এটিকে গ্রাহামের ‘সবচেয়ে বড় অর্জন’ বলে উল্লেখ করেন। সিনেটর টেড ক্রুজ জানান, মৃত্যুর আগে গ্রাহাম ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিলটি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

সিনেটরদের আশা, আগস্টের শেষের আগেই বিলটি সিনেটে পাস হতে পারে। তবে এর আগে বিলটি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পেতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে। ভারত বর্তমানে রাশিয়া থেকে কম দামে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে। ভারত বলছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই আমদানি প্রয়োজন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটিকে সমর্থন করেন। বিলটি আইনে পরিণত হলে ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন। এর ফলে ভারতসহ কয়েকটি দেশ নতুন বাণিজ্যিক চাপের মুখে পড়তে পারে।

LEAVE A REPLY