মোদিকে শুভেচ্ছা জানানোর পর শত্রুঘ্ন সিনহা বললেন—‘দিদিকে ছাড়ব না’

সংগৃহীত ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) সাংসদ ও প্রবীণ অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক গুঞ্জন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, সম্প্রতি লোকসভার স্পিকারের কাছে তৃণমূলের কথিত ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর জমা দেওয়া একটি চিঠিতে শত্রুঘ্ন সিনহার নাম রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এর মধ্যেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি পোস্ট করেন।

সেখানে তিনি লেখেন, ‘সমাজ ও দেশের বন্ধু ও পথপ্রদর্শক, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়িত্বে ১২ বছর পূর্তির জন্য শুভেচ্ছা। সম্ভবত এটি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদগুলোর একটি।আপনার দীর্ঘ, সুস্থ ও সমৃদ্ধ জীবন কামনা করি। জয় হিন্দ।’

পোস্টটিতে তিনি তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগও করেন, যা রাজনৈতিক মহলে নানান গুঞ্জনের জন্ম দেয়। তবে এসব জল্পনা নাকচ করে আসানসোলের এই সাংসদ বলেন, ‘আমাকে নিয়ে অনেক কিছু বলা হচ্ছে।কেউ কেউ বলছেন আমি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অংশ। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘খারাপ সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কঠিন সময়ে আমিও তার পাশে থাকব।’

শত্রুঘ্ন সিনহা জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধেই তিনি আসানসোল থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।তাই তিনি কখনো দিদিকে ছেড়ে যাবেন না।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শত্রুঘ্ন সিনহা প্রথমে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম পরিচিত নেতা ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তবে মতাদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে তিনি বিজেপি ত্যাগ করেন। পরে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে পাটনা সাহিব আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন।

পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং আসানসোল উপনির্বাচনে জয়ী হন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে একই আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদিকে শুভেচ্ছা জানানোকে কেন্দ্র করে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, শত্রুঘ্ন সিনহার সাম্প্রতিক বক্তব্য তা অনেকটাই থামিয়ে দিয়েছে। তিনি আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসেই থাকার ব্যাপারে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।


LEAVE A REPLY