ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করেছে দেশটির উত্তর অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে এই হামলার তীব্র প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি।
সোমবারের (১৩ জুলাই) এই হামলার ঘটনা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং হুথিদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতিকে এক বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা হ্রাসের প্রক্রিয়ার অবসান ঘটলো। আঞ্চলিক পরাশক্তি সৌদি আরবকে এই হামলার পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং এটি কোনোভাবেই জবাবহীন পার পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী সব বিমানবন্দরের কার্যক্রম ও বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দিতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
সরকারের এক সামরিক মুখপাত্র পরে জানান, বিমানটি শেষ পর্যন্ত হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বিমানবন্দরে নিরাপদেই অবতরণ করেছে। এডেনভিত্তিক এই সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানান, ইরানি বিমান কর্তৃক ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধ করতে ইরান ও হুথিদের বোঝানোর সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী যেকোনো বৈরী বিমানের বিরুদ্ধে সব উপায়ে জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য ইরানকে দায়ী করেন তিনি।
এদিকে ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার বিন মুতাহার আল-ইরিয়ানি অভিযোগ করেছেন, হুথিরা সানা বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের একটি বিমান আটকে রেখেছে এবং এর পাইলট ও কো-পাইলটকে নিজেদের হেফাজতে বন্দি করে রেখেছে।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ এবং বিদেশি শক্তির ছায়াযুদ্ধ চলছে। ২০২২ সালের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটালেও গাজা যুদ্ধ এবং ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে এই নতুন বিমান হামলা পরিস্থিতিকে আবারও অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।
ওদিকে গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দক্ষিণাঞ্চল দখলের জেরে হুথিবিরোধী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে ফাটল ধরার পর ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
সূত্র: রয়টার্স।









































