রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অনুমতি পেল ইউক্রেন

ছবি : এএফপি

ইউক্রেনকে সরবরাহকৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার অভ্যন্তরে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে জার্মানি ও অন্যান্য পশ্চিমা মিত্ররা। সোমবার (২৬ মে) বার্লিনে এক ইউরোপীয় ফোরামে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ এই ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। 

ঘোষণায় চ্যান্সেলর মার্জ বলেন, ‘ইউক্রেনকে সরবরাহকৃত অস্ত্র ব্যবহারে আর কোনো পাল্লা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নেই। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি কিংবা আমেরিকার পক্ষ থেকেও না।

অর্থাৎ, ইউক্রেন এখন রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতেও পাল্টা হামলা চালাতে পারবে।’

এই ঘোষণাটি এমন এক সময় এলো যখন রাশিয়া একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এই হামলাগুলোতে শিশুসহ দুই ডজনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

ফ্রিডরিখ মার্জ জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর হিসেবে ওলাফ শলৎসের জায়গায় কয়েক সপ্তাহ হয়েছে দায়িত্ব নিয়েছেন।

সাবেক চ্যান্সেলর শলৎস ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারে অনুমতি দিতে বরাবরই বিরোধিতা করে আসছিলেন।

তবে জার্মানি ইউক্রেনকে নিজস্ব শক্তিশালী টাউরাস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে কি না তা স্পষ্ট করেননি মার্জ। 

যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য গত বছর নভেম্বরেই এই বিধিনিষেধ তুলে দিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেন, যদিও এই সিদ্ধান্ত নিতে তাদের কয়েক মাস সময় লেগেছিল।

রাশিয়া পূর্ব থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে—যদি পশ্চিমা অস্ত্র রাশিয়ার মাটিতে ব্যবহৃত হয়, তবে সেটিকে ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে মস্কো। এমনকি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস জানায়, ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। 

পেসকভ বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ রাজনৈতিক সমাধানে আমাদের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগামী বুধবার বার্লিন সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘পুতিন পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছেন।’ তবে একইসঙ্গে তিনি জেলেনস্কির কিছু মন্তব্যকেও ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’ বলে আখ্যা দেন।

মার্কিন সিনেটর চাক গ্রাসলি, লিন্ডসি গ্রাহাম, এবং কংগ্রেসম্যান ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক ও ডন বেকন প্রেসিডেন্টকে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY