ছবি : রয়টার্স
মিয়ানমারের আটক সাবেক নেত্রী অং সান সু চি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) একজন প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার রাজধানী নেপিডোতে এ বৈঠক হয়েছে বলে দেশটির সামরিক-সমর্থিত সরকার জানিয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর জনসমক্ষে না আসা সু চির জন্য এটি বহির্বিশ্বের সঙ্গে বিরল একটি সাক্ষাৎ। ৮১ বছর বয়সী সু চির স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরকার প্রকাশিত দুটি ছবিতে দেখা যায়, সু চি আইসিআরসি-র মিয়ানমার প্রতিনিধি আর্নড ডি বেকের সঙ্গে করমর্দন করছেন এবং একটি কক্ষে বসে কথা বলছেন। সরকার জানিয়েছে, বৈঠকটি সোমবার সকালে হয়েছে।তবে কোথায় বৈঠক হয়েছে বা কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। আরো দুটি ছবিতে সু চিকে একটি গোলাপি জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। কেকে লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু, ১৯.৬.২০২৬’। ধারণা করা হচ্ছে, ছবিগুলো তার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে তোলা হয়েছিল।
প্রকাশিত ছবিতে সু চিকে সুস্থ ও হাসিখুশি দেখা গেছে। তবে শুধু ছবি দেখে তার প্রকৃত স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। এ বিষয়ে আইসিআরসি এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন। ওই বছর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে।এর পর থেকেই দেশটি রাজনৈতিক সংকট, সহিংসতা ও অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে অং সান সু চি কোথায় আছেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা কী, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। এ সময়ে কোনো বিদেশি নেতা বা কূটনীতিকও প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। এ কারণে তিনি আদৌ জীবিত আছেন কি না, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে অনেকেরই প্রশ্ন, অং সান সু চি কি এখনো বেঁচে আছেন, না কি তিনি মারা গেছেন।
সু চির ছেলে কিম আরিসও বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীদের কাছে একটিই দাবি জানাচ্ছেন। তা হলো, মিয়ানমারের সামরিক সরকার যেন সু চির বেঁচে থাকার প্রমাণ দেয়।
মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র খাইন খাইন সো জানান, সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানী নেপিডোতে সু চি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) মিয়ানমার প্রতিনিধি আর্নড ডি বেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে আইসিআরসি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এপ্রিলের শেষ দিকে সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনের পর সাবেক জান্তা নেতা মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি হন। এরপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকলে কর্তৃপক্ষ জানায়, অং সান সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে।










































