ফাতিমা তুয-যাহরা ঐশী
অনেক দিন হলো নতুন গান নেই। নতুন কী করছেন ফাতিমা তুয-যাহরা ঐশী? বন্যা, গান ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপ।
আপনি নোয়াখালীর মেয়ে এবং বউ। সেখানকার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে ক্রমেই।
কী উদ্যোগ নিয়েছেন?
বন্যার শুরু থেকেই নিয়মিত এলাকার খোঁজখবর নিচ্ছি। তিন দিন আগে আমার স্বামী আরেফিন জিলান সাকিব সেখানে গেছে ত্রাণ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে। এখনো আছে সেখানে। বন্যার্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুকনা খাবার ও খাবার পানি বিতরণ করছে।
যখন যেটা দরকার পড়ছে আমি ঢাকা থেকে পাঠাচ্ছি। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাকিব সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাকে বলেছি, যেহেতু আমি নারী, তোমার মতো অত পরিশ্রম করতে পারব না, আমার হয়ে তুমি যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাও বানভাসি মানুষের জন্য।
আপনি কণ্ঠশিল্পীর পাশাপাশি চিকিৎসকও।
বন্যার্তদের চিকিৎসায় চিকিৎসক ঐশীর কী ভূমিকা?
আমার কর্মস্থল নিপসম (ন্যাশন্যাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন) কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমাদের টিম এখন বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে আছে। বন্যা-পরবর্তী পানিবাহিত অনেক রোগ হতে পারে। তখন হয়তো টিমের সঙ্গে আমাকেও যেতে হবে। আমিও প্রস্তুত।
চিকিৎসা মহান পেশাগুলোর একটি। যেকোনো ধরনের মহামারিতে আমাকে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে পাবেন।
গান বাংলা চ্যানেলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ শিল্পী। সম্প্রতি চ্যানেলটির ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে। অনেক উত্থান-পতন গেছে। এবার কি চুক্তি থেকে সরে আসবেন?
না, না। ঐশীকে তৈরি করেছে গান বাংলা। তাদের সঙ্গে সম্পর্কটা এত সহজে নষ্ট হওয়ার নয়। এরই মধ্যে কিন্তু চ্যানেলটি ফের সম্প্রচারে এসেছে। তারা আবার নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে। বড়জোর দুই থেকে চার মাস, প্রতিষ্ঠানটি স্বমহিমায় ফিরে আসবে। আবার আমরা দেশে-বিদেশে শো করব। বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক মানের গানও তৈরি হবে। গান বাংলার সঙ্গে আমি ছাড়া আরো যাঁরা যুক্ত ছিলেন সবাই মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি নিন। সামনে শুভ দিন আসছে।
গান বাংলার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে অনেকের ধারণা, এতে আপনার ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়েছে…
এটা তাদের ভুল ধারণা। আমি জেনেবুঝেই চ্যানেলটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। আগে আমার গান, শো—সব কিছুই বাবা দেখতেন। তিনি মারা যাওয়ার পর মা কিছুটা দেখলেও আন্তর্জাতিক শোগুলো বা দেশের বড় ইভেন্টগুলো মা অতটা বুঝতেন না। তখন আমি গান বাংলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। তারা আমার শো, ইভেন্ট ও নতুন গানে কণ্ঠ দেওয়ার বিষয়গুলো দেখভাল করে। দেশের বাইরে দেখার জন্য প্রত্যেক শিল্পীর ব্যবস্থাপক আছেন। তাঁরাই শিল্পীদের সব কিছু ডিল করেন। আমার ক্ষেত্রে সেটা করছে গান বাংলা। এখানে খারাপের কিছু দেখছি না। নিজেই যদি পারিশ্রমিকের বিষয়, ইভেন্টের গুণমান যাচাই করি, নতুন গানের ক্ষেত্রে কথা-সুর মূল্যায়ন করে বাছাই করি—তাহলে গানের দিকে মনোযোগ দেব কী করে? আমার হয়ে এই কাজগুলোই গান বাংলা করে দেয়। এতে লাভ হলো, আমি গানচর্চা ও নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় পাই।
নতুন গান প্রকাশ করছেন না অনেক দিন হলো…
নতুন গান প্রকাশের অবস্থা নেই। দেশের মানুষ এখন অস্থির সময় পার করছে। একদিকে বন্যা, অন্যদিকে নতুন সরকারের কাছে একের পর এক দাবিদাওয়া—মানুষ কোনটা রেখে কোন দিকে নজর দেবে বলেন! আমার কয়েকটি গান ভিডিওসহ প্রস্তুত। প্রকাশ করব করব করেও হলো না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই একের পর এক গান প্রকাশ করব।
এখন তো নিজেই গান কম্পোজিশন করছেন। নতুন কোনো খবর আছে?
শুরু যেহেতু করেছি একটা রেজাল্ট তো আসবেই। বড় চমক অপেক্ষা করছে শ্রোতাদের জন্য। তারা নতুন এক ঐশীকে পাবে। শিল্পী তো বটেই, সুরকার-কম্পোজার হিসেবেও অন্য রকম এক গান নিয়ে হাজির হব শিগগিরই।









































