‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ সময়ের সিদ্ধান্ত তাই…

প্রশ্ন আর বিতর্ক, দুটোই উসকে দিয়েছে নবগঠিত বিপিএল ম্যানেজমেন্ট কমিটি। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর পরিচালনায় গভর্নিং কাউন্সিল থাকতে আলাদা করে এটি গঠন করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অভ্যন্তরে অসন্তোষও আছে। আবার এই কমিটিতে বিতর্কিত রিজওয়ান বিন ফারুকের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আলোচনা আছে। অবশ্য এক্সিওম টেকনোলজিস নামের প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারকে আজীবন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনের থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার ঘটনা জানা ছিল না বলে গতকাল দুপুরে দাবি করেছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ, ‘আমি জানতাম না।

এখন খোঁজখবর নেব।’

সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রেস বক্সে এসে তিনি ২০১৬ সালে রিজওয়ানকে নিষিদ্ধ করার ঘটনাকে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও অস্বাভাবিক অবস্থায় নিষিদ্ধ ব্যক্তির আরেকজনের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যেই ঘটেছিল। মিরপুরে এশিয়া কাপ ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী মঞ্চের পাশেই রিজওয়ান যখন মারমুখী হন, তখনো বেশির ভাগ দর্শক স্টেডিয়াম ছেড়ে যায়নি।

নিষিদ্ধ হয়েও কমিটিতে!

নিষিদ্ধ হয়েও কমিটিতে!

বিসিবির পরিচালক, কর্মী এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই মাঠে আরেক ক্রীড়া বিপণন সংস্থা টোটাল স্পোর্টস মার্কেটিংয়ের কর্ণধার মঈনুল হক চৌধুরীকে মারতে যান রিজওয়ান। ওই বিষয়ে বিসিবিতে তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে এসে ফারুকের রায়, ‘ওটা আসলে দুই ভেন্ডরের মধ্যকার ঘটনা ছিল। এতে বিসিবির কোনো যোগসূত্র নেই।’
ঘটনাটি অবশ্য বিসিবির ভেন্যুতেই ঘটেছিল।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও বিসিবিই নিয়েছিল। কিন্তু সেটি যেহেতু পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ঘটেছিল, তাই বিতর্কিত রিজওয়ানের বিষয়ে বেশ নমনীয়ই শুনিয়েছে বর্তমান সভাপতির কণ্ঠ। সন্ধ্যায় বিপিএলের ম্যাচ চলাকালীন প্রেস বক্সে এসে ফারুক যা বলে গেছেন, দুপুরেও তাঁর অবস্থান একই রকম ছিল, ‘২০১৬ সালে তো অনেক ঘটনাই ঘটেছে। আর ওই সরকারে যা ঘটেছে, ওটা আসলে আমাদের খুব বেশি…। ওই সরকারের সময় যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো যে সব আমাদের ধারণায় রাখতে হবে (এমন কোনো কথা নেই)।

আগের সরকারের সময়ের ঘটনা হওয়ায় রিজওয়ানের বিরুদ্ধে বিসিবির থানায় জিডি করার ঘটনাও খুব গুরুত্ব পাচ্ছে না ফারুকের কাছে। অথচ এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) গ্রাউন্ড রাইটস না পেয়ে সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছিলেন রিজওয়ান। এসিসির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারি মিরপুর থানায় জিডিও করে বিসিবি। যদিও বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সেই ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে মনে করতে পারেননি, ‘এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে না। অবশ্য এ রকম কিছু (জিডি) হয়ে থাকলে আমার মাধ্যমেই তা হওয়ার কথা।’ সন্ধ্যায় ফারুক জানিয়েছেন, জিডি করার ঘটনার সত্যতা তিনি পাননি। আর বিপিএলের ম্যানেজমেন্ট কমিটি গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি, ‘গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসংখ্যা তো মাত্র চারজন। এর মধ্যে আমি তো সভাপতি। মাহবুব (মাহবুব আনাম) ভাই তো মূলত অকশন পরিচালনা করে থাকেন। এর বাইরে আছেন মাত্র দুজন। একদিকে লোকবল বেশ কম, কিন্তু কাজ অনেক বেশি। কাজের সুবিধার্থেই এই কমিটি করা হয়েছে। এখানে সাংঘর্ষিক কিছু নেই।’

LEAVE A REPLY