রতন টাটার উইলে ৫০০ কোটি ‘অন্যের’ নামে, বিস্মিত স্বজনরা

সংগৃহীত ছবি

গত বছরের ৯ অক্টোবর ভারতের অন্যতম শিল্পপতি রতন টাটা মারা যান। এরপর থেকে রতন নওল টাটার ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিক কে হবেন, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। এবার রতন টাটার সম্পত্তিতে একজনের নামে প্রায় ৫০০ কোটি রুপি রেখে গেছেন যা নিয়ে বিস্মিত হয়েছেন রতন টাটার স্বজন ও ঘনিষ্ঠরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, রতন টাটার কোনো সন্তান বা উত্তরা‌ধিকারী ছিলেন না।

তাই মৃত্যুর পরে তার এই বিশাল সম্পত্তি কার হাতে যাবে তা উইল করে আগে থেকেই ঠিক করে গিয়েছিলেন রতন। সেই উইল কার্যকর করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের হাতে।

রতন টাটার উইল প্রকাশ্যে আসার পর জানা যায় কার জন্য কী রেখে গিয়েছেন রতন টাটা। দেখা যায়, পোষ্য, সহচর, রাঁধুনি— তার উইল থেকে বাদ পড়েননি কেউই।

জনহিতকর কাজের জন্যও টাকা রেখে গিয়েছেন তিনি।

কিন্তু সম্প্রতি রতন টাটার উইল থেকে এমন একটি নাম প্রকাশ্যে এসেছে, যার জন্য মনে করা হচ্ছে শিল্পপতির সম্পত্তির বণ্টন নিয়ে বিরোধ তৈরি হতে পারে। সেই নাম মোহিনীমোহন দত্তের। তিনি জামশেদপুরের এক ব্যবসায়ী, টাটা গোষ্ঠীর সাবেক কর্মী এবং প্রয়াত শিল্পপতির আস্থাভাজন।

দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামশেদপুরের ওই ব্যবসায়ীর নামে ৫০০ কোটি রুপি রেখে গিয়েছেন রতন টাটা। আর তা নিয়েই টাটা পরিবার এবং রতন টাটার ঘনিষ্ঠেরা নাকি বিস্মিত। রতন টাটার উইল ঠিক করে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব যাদের কাছে ছিল, তারাও নাকি বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট অবাক।

উইল অনুযায়ী, ৭৪ বছর বয়সি মোহিনীমোহন রতন টাটার অবশিষ্ট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকে জমা থাকা ৩৫০ কোটিরও বেশি টাকা এবং রতন টাটার ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা ছবি ও ঘড়ি বিক্রির আয়।

সম্পত্তির বাকি দুই-তৃতীয়াংশ রতন টাটার দুই সৎবোন শিরিন জেজীভোয় এবং ডিনা জেজীভোয় পাবেন। টাটা গোষ্ঠী এবং তার বাইরে অন্যান্য সংস্থায় থাকা শিল্পপতির শেয়ারসহ শিল্পপতির মূল সম্পদের সিংহভাগ তার দুটি ফাউন্ডেশনের জন্য রেখে গিয়েছেন তিনি।

মোহিনীমোহন ইতিমধ্যেই রতন টাটার সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ গ্রহণ করবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি নাকি মনে করছেন যে, ওই সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা হওয়া উচিত ছিল। মোহিনীমোহনের সেই দাবি নাকি রতন টাটার সম্পত্তির কিছু অংশীদারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ, প্রয়াত শিল্পপতির একটি সম্পত্তির আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন এখনো হয়নি।

টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত অনেকেই জানিয়েছেন যে, রতন টাটার মোট সম্পত্তি থেকে তার ভাই জিমি টাটা পেয়েছেন ৫০ কোটির সম্পত্তি। তবে সৎভাই নোয়েল টাটা এবং তার সন্তানদের নাম উইলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সম্পত্তির অংশীদারদের একাংশ নাকি রতন টাটার উইলে মোহিনীমোহনের মতো একজন ‘বহিরাগতের’ নাম থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

মোহিনীমোহনের সঙ্গে রতন টাটার যোগাযোগ কীভাবে? তার পরিবারের ঘনিষ্ঠরাও নাকি মোহিনীমোহনকে সেভাবে চেনেন না। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, রতন টাটা এবং মোহিনীমোহনের আলাপ জামশেদপুরে। সেখানেই দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গাঢ় হয়। পরবর্তীতে মোহিনীমোহনের কর্মজীবন এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগকেও সমর্থন করেছিলেন ভারতীয় শিল্পপতি। মোহিনীমোহনের দাবি, রতন টাটার সঙ্গে তার সম্পর্ক দীর্ঘ ছয় দশকের।

শিল্পপতির শেষকৃত্যের পর তিনি বলেছিলেন, ‘রতন টাটার যখন ২৪ বছর বয়স, তখন জামশেদপুরের ডিলার্স হোস্টেলে আমাদের প্রথম দেখা হয়। উনি আমাকে সাহায্য করেছিলেন এবং আমাকে গড়ে তুলেছিলেন।’

‘স্ট্যালিয়ন ট্র্যাভেল এজেন্সি’ নামে একটি ভ্রমণ সংস্থার মালিক ছিলেন মোহিনী। তবে তার আগে তিনি টাটা তাজের হয়ে কাজ করতেন। পরের দিকে তাজের ভ্রমণ বিভাগের সঙ্গে মিলে কাজ করত মোহিনীমোহনের ওই সংস্থা। টাটা ক্যাপিটাল পরবর্তীতে সংস্থাটিকে অধিগ্রহণ করে এবং পরে টমাস কুকের কাছে ব্যবসা বিক্রি করে দেয়। তবে এখনো মোহিনীমোহন সেই সংস্থার ডিরেক্টর।

টাটাদের সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ ব্যক্তিদের অনেকেই নাকি জানিয়েছেন, মোহিনীমোহন প্রায়ই নিজেকে রতন টাটার দত্তকপুত্র হিসাবে দাবি করতেন। যদিও উইল এবং বিভিন্ন নথি থেকে স্পষ্ট যে রতন টাটা কখনোই বিয়ে করেননি বা আইনত কোনো সন্তান দত্তক নেননি।

রতন টাটার জীবনে মোহিনীমোহনের কী এমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল যে, তার নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রেখে গিয়েছেন শিল্পপতি? আপাতত সেই প্রশ্নই ঘুরছে বিভিন্ন মহলে। যেখানে ভাইয়ের নামে ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি, সেখানে কী করে মোহিনীমোহন ৫০০ কোটি পেলেন? উঠছে সেই প্রশ্নও।

LEAVE A REPLY