আমাকে ফোন দিয়ে মানুষ জিজ্ঞেস করে ‘কাজের বুয়া আছে কি না’: শিমুল

শিমুল

একঝাঁক ব্যাচেলর চরিত্র নিয়ে সাত বছর আগে কাজল আরেফিন অমি নির্মাণ করেছিলেন ধারাবাহিক নাটক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’, প্রচারে আসার পর সেটি তুমুল দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। দর্শকপ্রিয়তার দরুণ নাটকটির প্রত্যেকটি চরিত্রই অল্প সময়েই দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সেরকমই একটি চরিত্র শিমুল শর্মা।

ইতিমধ্যে ঘোষণা এসেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নতুন সিজনের।

দর্শকের তুমুল আগ্রহে এবার নির্মিত হচ্ছে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ৫’। ঘোষণার পরই নড়েচড়ে বসেছেন দর্শকরা, ঘোষণার পোস্টই সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার হয়েছে প্রায় বিশ হাজারেরও বেশি। 

গত দুইদিন ধরেই চলছে নতুন সিজনের শুটিং। এরমধ্যে অংশ নিয়েছেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ এর পূর্বের সিজনের অনেকেই।

জানা গেছে, এরমধ্যে যোগ হতে পারে নতুন চমকও।

May be an image of 1 person, smiling and lake

প্রায় আড়াই বছর পর নতুন সিজন শুরু হওয়া প্রসঙ্গে শিমুল শর্মা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট নিয়ে দর্শকদের যে পরিমাণ আগ্রহ দেখেছি, তা অভাবনীয়। দর্শক চাহিদার কারণেই আবার নতুন সিজন শুরু হয়েছে, আমরা সবাই আবারো একসঙ্গে হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পুরো টিম একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রজেক্ট করলেও ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ আমাদের কাছে অন্যরকম একটা ভালোবাসার নাম।

অনেকদিন পর আমরা যখন আবার এটারই নতুন সিজনে একসঙ্গে হয়েছি তখন সবাই পুরনো দিনগুলো মনে করে আনন্দ করছিলাম। আমরা তো মজা করতে করতেই শুটিং করি। এবারো তাই হচ্ছে। এবারও দর্শক মজা পাবে।’

May be an image of 1 person and smiling

পুরনো দিনের কথা প্রসঙ্গে শিমুল আরো বলেন, ‘‘আমরা যখন ব্যাচেলর পয়েন্ট শুরু করেছিলাম সেইসময়ে আমরা কী করতাম, না করতাম সেগুলো মনে করেই এখন আমরা সেটে মজা করি।

আমার তো এখনো মনে পড়ে, মানুষ আমাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করে যে, ‘ভাই, বুয়া লাগবে, আপনার কাছে বুয়া আছে কি না!’’

যোগ করে তিনি আরো বলেন, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট এর একটা সিজনে আমরা মেসের জন্য কাজের বুয়া খুজতেছিলাম, এরজন্য লিফলেটে ‘বুয়া লাগবে’ লিখে যোগাযোগের জন্য আমার ফোন নাম্বারটা দেওয়া হয়েছিল। প্রচারে আসার পর থেকে আমার নাম্বারে ফোন আসতে শুরু করে। আর ফোন দিয়েই জানতে চায়, ‘ভাই, আপনি কে! আপনার কাছে বুয়া আছে কি না!’ এত পরিমাণ ফোন আসে যে নাম্বার বন্ধ রাখতে বাধ্য হই। এখনো মাঝেমাঝেই ফোন আসে, জিজ্ঞেস করে- ভাই, আপনি কে!’ এরকম ঘটনাসহ আরও কত কত ঘটনা যে আছে এই নাটকটি ঘিরে, যা বললে শেষ হবে না।’ 

তাদের এই বিড়ম্বনাটুকুও ভালোবাসা হিসেবেই নেন শিমুল, বিরক্ত হন না। বললেন, প্রথম দিকে বিরক্ত লাগতো যখন দেখতাম প্রচুর ফোন আসতো। এরজন্য অনেক সময় ফোন বন্ধ রাখতাম, যার কারণে অনেক প্রয়োজনীয় কল মিস করে ফেলতাম।

বেশিরভাগ সময় ছেলেরাই ফোন দেয় বলে জানান শিমুল। সে অর্থে তাকে নাকি কোনো মেয়ে ফোন দেয় না। ছেলে ভক্ত বেশি নাকি মেয়ে, এমন প্রশ্ন শিমুল হাসতে হাসতে বললেন, ‘ছেলেরাই আমাকে বেশি মেসেজ দেয় কিংবা ফোন দেয়। আমার কোনো মেয়ে ভক্ত নেই।’

No photo description available.

শিমুল জানিয়েছেন, এবারের নতুন সিজনও বেশ মজা করে শুটিং করছেন তারা। নানা চমকে, বিনোদনে দর্শকেরাও মজা পাবেন বেশ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে কাজল আরেফিন অমির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন নোয়াখালীর শিমুল। অমির প্রতিষ্ঠান বুম ফিল্মসের প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। পাশাপাশি অভিনয় করেন।

শিমুলের ছেলেবেলা কেটেছে ফেনী সদরে। ফেনী পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সিএসই শেষ করেছেন তিনি। 

LEAVE A REPLY