রাজত্ব তাণ্ডবের, বাকিদের কী হাল?

সংগৃহীত ছবি

অনেক বছর ধরেই ঢালিউডের বাজারটা ঈদকেন্দ্রিক। দুই ঈদের ছবিগুলোই অল্পবিস্তর ব্যবসা করে। ফলে ঈদের অপেক্ষায় থাকেন নির্মাতা-প্রযোজক-শিল্পী থেকে শুরু করে প্রেক্ষাগৃহের মালিকরাও। সে অপেক্ষার কতখানি সার্থকতা দেখা যাচ্ছে এই ঈদে? উত্তরটা নেতিবাচকই বটে।

 কেননা রায়হান রাফীর ‘তাণ্ডব’ ছাড়া কোনো ছবিই উল্লেখযোগ্য দর্শক টানতে পারছে না। মাল্টিপ্লেক্স থেকে সিঙ্গেল স্ক্রিন, সবখানেই একই চিত্র। এমনকি মুক্তির মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্স থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক ছবি। ঈদের ছবির সর্বশেষ হালচাল জানতে মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিনের খোঁজ নিয়েছেন কামরুল ইসলাম।

একটি-দুটি নয়, এই ঈদে মুক্তি পেয়েছে অর্ধডজন ছবি—‘তাণ্ডব’, ‘ইনসাফ’, ‘উৎসব’, ‘নীলচক্র’, ‘টগর’ ও ‘এশা মার্ডার-কর্মফল’। ঈদের সবগুলো ছবি নিয়েছিল দেশের একমাত্র মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্স। তবে এরই মধ্যে সেখান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে আলোক হাসানের ‘টগর’। বাকি ছবিগুলো চলছে।

 ‘তাণ্ডব’ রয়েছে যোজন এগিয়ে। সিনেপ্লেক্সের সব শাখা মিলিয়ে প্রতিদিন ছবিটির ৪৬টি প্রদর্শনী হচ্ছে।

দ্বিতীয় স্থানে আছে তানিম নূরের ‘উৎসব’। এটির শোসংখ্যা ১৩। এ ছাড়া ‘ইনসাফ’-এর ১২টি, ‘নীলচক্র’ ও ‘এশা মার্ডার-কর্মফল’-এর তিনটি করে প্রদর্শনী হচ্ছে।পাশাপাশি চলছে হলিউডের ‘মিশন : ইম্পসিবল-দ্য ফাইনাল রিকনিং’।

সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ঈদে বরাবরই আমাদের দর্শক হয়। এবারও হচ্ছে। ‘তাণ্ডব’ বেশ ভালো যাচ্ছে। এ ছাড়া ভিন্ন আমেজের ‘উৎসব’ নিয়েও দর্শকের আগ্রহ দারুণ। দর্শক সমাগম না হওয়ায় ‘টগর’ নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেখুন, আমরা ছবি চালাই কিংবা শোসংখ্যা বাড়াই-কমাই দর্শকের চাহিদার ওপর। দর্শক যে ছবিটা দেখতে চাইবেন, সেটাকে প্রাধান্য দিই। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।” 

পুরান ঢাকার মানুষের ছবি দেখার একমাত্র আশ্রয় লায়ন সিনেমাস। এ মাল্টিপ্লেক্সে ঈদের সব ছবিই মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু গতকাল থেকে চলছে মোটে তিনটি— ‘তাণ্ডব’, ‘উৎসব’ ও ‘ইনসাফ’। এর মধ্যে প্রতিদিন ‘তাণ্ডব’-এর শো ৯টি, বাকি দুই ছবির দুটি করে শো। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মির্জা আবদুল খালেক বলেন, “প্রথম সপ্তাহের অবস্থা দেখে তিনটি ছবি (নীলচক্র, এশা মার্ডার-কর্মফল ও টগর) নামিয়ে ফেলেছি। ছবিগুলোর দর্শক একেবারেই হয়নি। এখন তিনটি চলছে। আসলে এখনকার সিনেমা হয়ে গেছে ওয়ান ম্যান শো। এক নায়কের ওপর চলছে। কিন্তু এভাবে তো ইন্ডাস্ট্রি এগোবে না। ‘নীলচক্র’ ছবিটাও একেবারেই চলল না। কেন? এ হিসাবটাই মেলাতে পারছি না।” 

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ মধুমিতা, বৃহত্তমও বটে। সেখানে চলছে ‘তাণ্ডব’। এ হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ জানান, তাদের প্রথম সপ্তাহ ভালো গেছে। তিনি বলেন, “ছবিটা ভালো চলছে। তবে রোজার ঈদ ওয়াজ মাচ বেটার। ‘বরবাদ’-এর সাড়া ছিল অন্য রকম। ‘তাণ্ডব’-এর বেশ কিছু শো ভালো গেছে। আজকের (গতকাল) ম্যাটিনি শোও ভালো যাবে। একটা সমস্যা হলো, আমাদের হলের এসিটা নষ্ট হয়ে গেছে। সেটা জানার পর অনেক দর্শক বুকিং দিচ্ছেন না। তো এ সপ্তাহের মধ্যে এসিটা ঠিক করে ফেলব। এরপর আশা করি দর্শক আরো বাড়বে।” 

‘তাণ্ডব’-এর পর ‘ইনসাফ’ অথবা ‘উৎসব’ চালাবেন বলে জানান নওশাদ। বলেন, “খবরে দেখলাম, ‘উৎসব’ ছবিটা ভালো চলছে। সিনেপ্লেক্সে শো বাড়িয়ে দিয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এই ছবির শুটিং কিন্তু মধুমিতায় হয়েছে। তো ছবিটা চালানোর ইচ্ছা আছে।”

যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাসেও সব ছবি মুক্তি পেয়েছিল। তবে সপ্তাহ না ফুরাতেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘টগর’। বর্তমানে চলছে ‘তাণ্ডব’ (প্রতিদিন ১৩ শো), ‘ইনসাফ’ (৪টি), ‘উৎসব’ (৪টি), ‘নীলচক্র’ (১টি) ও ‘এশা মার্ডার’ (১টি)। মাল্টিপ্লেক্সটির বিপণন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, তাদের প্রেক্ষাগৃহে ঈদের ছবির অবস্থা রমরমা। ছুটি কাটিয়ে মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করায় দর্শকের চাপও বাড়ছে। আগ্রহের মূলে ‘তাণ্ডব’। তাই এ ছবিটির সর্বোচ্চ শো বরাদ্দ রাখছেন তারা।

দেশের সবচেয়ে বড় সিনেমা হল যশোরের মণিহার। সেখানে চলছে ‘তাণ্ডব’। হলটির বুকিং ম্যানেজার আলী আকবর সোহাগ বলেন, “ভালোই যাচ্ছে। তবে আহামরি ভালো চলছে এমন না, আবার মন্দও যাচ্ছে না। এসি হলে দর্শক আসছেন। কিন্তু তীব্র গরম তো, তাই নন-এসিতে দর্শক হচ্ছে না সেভাবে। ‘তাণ্ডব’-এর দর্শক কমে এলে ‘ইনসাফ’ চালানোর পরিকল্পনা আছে।”

এদিকে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘তাণ্ডব’। বায়োস্কোপ ফিল্মসের পরিবেশনায় সেখানকার ১৮টি হলে চলছে ছবিটি। সামনে কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর পরিবেশনায় ২০ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের প্রেক্ষাগৃহে চলবে ‘উৎসব’।

রোজার ঈদের ছবিগুলো টিকিট বিক্রির অঙ্ক প্রকাশ করেছিল। তবে এই ঈদে সেটা দেখা যাচ্ছে না। ব্যবসায় এগিয়ে থাকা ‘তাণ্ডব’ টিম তাদের আয়ের অঙ্ক প্রকাশ করবে কি না, সে বিষয়ে জানতে ছবির নির্মাতা রাফী ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁঁদের সাড়া মেলেনি। ‘টগর’-এর মুখ থুবড়ে পড়া নিয়ে চুপ রয়েছেন এর অভিনেতা আদর আজাদ। তবে এক ফেসবুক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “অন্য পাঁচটি চলচ্চিত্রের কারণে ‘টগর’-এর শো টাইম দর্শকদের উপযোগীভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তাই দর্শকদের স্বার্থ বিবেচনায় আমরা এক সপ্তাহের জন্য মাল্টিপ্লেক্স থেকে ছবি তুলে নিয়েছি। আগামী সপ্তাহে ‘টগর’ আবারও মাল্টিপ্লেক্সে ফিরবে নতুন সময়সূচি, সঠিক পরিকল্পনা ও পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে।”

LEAVE A REPLY