ছবি : সংগৃহীত।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাঁচ দেশের সফর শুরু করেছেন। প্রথম গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাত, এরপর তিনি ইউরোপের কয়েকটি দেশ সফর করবেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান উড়োজাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে দেশটির দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলো সেটিকে নিরাপত্তা দিয়ে এসকর্ট করে নিয়ে যায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তার বিমান এসকর্ট করার জন্য যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
শুক্রবার বিকেলে ইউএই বিমানবাহিনীর এফ-১৬ ব্লক ৬০ ‘ডেজার্ট ফ্যালকন’ যুদ্ধবিমানগুলো মোদির বিমানকে আবুধাবি পর্যন্ত এসকর্ট করে। মোদি যে বিমানে ভ্রমণ করছিলেন, সেটি একটি বিশেষভাবে পরিবর্তিত বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর।এটি ‘এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান’ নামেও পরিচিত।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবাহিনীর এফ-১৬ ব্লক ৬০ ‘ডেজার্ট ফ্যালকন’ যুদ্ধবিমানগুলো সম্প্রতি ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, একই ধরনের যুদ্ধবিমানগুলো শুধু ভিআইপি বিমান এসকর্টেই নয়, বরং আকাশ প্রতিরক্ষা অভিযানে অংশ নিয়ে আক্রমণ প্রতিহত করার কাজেও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার হচ্ছে।
নরেন্দ্র মোদিকে আমিরাতের বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।এরপর তিনি আমিরাতের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সঙ্গে বৈঠক করেন। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মোদি তাকে বিশেষ আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪০ লাখের বেশি ভারতীয় থাকেন। এটি উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। মোদি আলো জানান, ‘আপনার বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান আমাকে এসকর্ট করেছে, এটি ভারতের জনগণের জন্য সম্মানের বিষয়।’
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে যেভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো যোগ করেন, ‘ভারত সব পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশে আছে।’
এদিকে হরমুজ প্রণালির আশপাশে অস্থিরতা ও উপসাগরীয় নৌপথে বাধার কারণে তেল ও গ্যাসের বাজারে চাপ বাড়ছে। এতে ভারতসহ জ্বালানি-নির্ভর দেশগুলোর জন্য সমস্যা তৈরি করছে। এই সফরে নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালিতে সেফর করবেন মোদি। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হবে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর ইউরোপের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো গভীর করবে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারত নিজেকে একটি বড় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
উপসাগরীয় অঞ্চল ভারতের তেল ও এলপিজি আমদানির প্রধান উৎস, তাই জ্বালানি নিরাপত্তা এই সফরের বড় বিষয়। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত কে.সি. সিং বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং জিসিসি দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও আঞ্চলিক উত্তেজনা ভূ-রাজনীতিকে নতুনভাবে গঠন করছে।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের উচিত শুধু সাধারণ জ্বালানি বাণিজ্যের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত জ্বালানি নিরাপত্তা অংশীদারি গড়ে তোলা। সফরের অংশ হিসেবে নেদারল্যান্ডসে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাত নিয়ে আলোচনা হবে।
সুইডেনে তিনি ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেয়েনের সঙ্গে ব্যবসায়ী ফোরামে বক্তব্য দেবেন। এরপর নরওয়েতে ভারত-নর্ডিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যবস্থার অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থ আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নরওয়ের আর্কটিক গবেষণা কেন্দ্র এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সফরের শেষ পর্যায়ে ১৯ মে ইতালিতে জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠক করবেন নরেন্দ্র মোদি।









































