আবিদ বিন পারভেজ প্রান্ত
শোবিজ অঙ্গনের নতুন মুখ আবিদ বিন পারভেজ প্রান্ত। অভিনয়ের শুরুটা বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে। ‘ক্লোজআপ কাছে আসার প্রতিদিনের গল্প’ বিজ্ঞাপন সিরিজে ‘লিফট টুগেদার’-এ অভিনয় করে নজর কাড়েন। ‘দুরন্ত বাইসাইকেল’-এর বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে মডেলিংয়ে নাম লেখান।
২০১৯ সালে গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনে সাড়া পাওয়ার পর নিয়মিত ডাক পেতে থাকেন। সম্প্রতি নজর কেড়েছেন তানিম রহমান অংশুর ‘খালিদ’-এ। সামনে দেখা যাবে একাধিক প্রজেক্টে। কাজ, ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে প্রান্ত কথা বলেছেন কালের কণ্ঠের সঙ্গে।
শুনেছেন শঙ্খনীল দেব।
কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?
অল্প সময়েই বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন। অভিনয়ের শুরুটা কিভাবে হলো, সেই গল্পটা শুনতে চাই।
২০১৯ সালে প্রথম ক্যামেরায় আসা। গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। একে একে সাতটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। এরপর অনির্বাণ ২০২৩ ফেস, ক্লোজআপ লিভ টুগেদার, কেএফসি, হজম, র্যাবের টিভিসি, বসুন্ধরা ফরচুন অয়েল, বিকাশ, দুরন্ত বাইসাইকেলের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। দুরন্ত বাইসাইকেলের অ্যাম্বাসাডর হিসেবে প্রথম লাইমলাইটে আসি আমি।
সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পায় পলাশ অভিনীত ‘খালিদ’। এটিও আমাকে দর্শকপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। ওটিটিতেও কাজ করেছি। ওটিটির ফিল্ম ‘গ্যাংস্টার ব্রোজ’-এ ছিলাম। ইরফান সাজ্জাদ, পাভেল, নওবা ছিলেন এতে। আমার একটি ক্যামিও চরিত্র ছিল।
অভিনয়ে আসা কিভাবে? অনুপ্রেরণা পেলেন কার কাছে?
অভিনয়ে আসার অনুপ্রেরণা আমার আব্বু। আমার আব্বুর নাম মি. পারভেজ বাবুল। তিনি একজন জার্নালিস্ট। আব্বু অভিনয় করতেন থিয়েটারে। ছোটবেলা থেকে উনি নায়ক হতে চাইতেন। তবে কর্মব্যস্ততায় অন্য পেশা বেছে নিতে হয়। আমি আব্বুর কাছ থেকে ইন্সপায়ার্ড। এছাড়া আম্মুও আমার অনুপ্রেরণা। আমার আম্মু সাবিনা ইয়াসমিন চৌধুরী। তিনি পুরোদমে একজন গৃহিনী। যখন টুকটাক কাজ শুরু করি, আম্মু আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন অনেক। তিনি সবসময় আমাকে বড়পর্দায় দেখতে চান। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই অভিনয়ে পুরোদমে আসার সিদ্ধান্ত। এরপর ফিকশন করলাম, নির্মাতাদের সঙ্গে দেখা করা শুরু করলাম।
ঠোঁট ফুলে বেহাল দশা উরফি জাভেদের
পরিবারের সবচেয়ে আদরের ছেলে আপনি। বিদেশ না গিয়ে অভিনয়ে কেন?
আমরা দুই ভাই। বড় ভাই বিজনেস করেন। তবে পরিচালনাও করেছেন টুকটাক। তার নিজস্ব স্টুডিও হাউজ আছে। আমি দাদা বাড়ি ও নানা বাড়ির সবচেয়ে ছোট ছেলে, সবার আদরের। আমাকে দেশের বাইরে পাঠানোর জন্য পরিবারের চেষ্টা ছিল অনেক। তবে বাবা-মার কারণে যাইনি। বাবা-মাকে ফেলে যেতে চাই না। নিজের স্বপ্নপূরণেও ছুটতে চাই। এদেশ আমার শেকড়। এদেশের মানুষের মাঝেই নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পাই। বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা নেই।
এই অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে পরিচালনাও করেছেন আপনি। সেই প্রসঙ্গে কিছু শুনতে চাই।
ডিরেকশন করেছি ২টি কাজ। শাফায়াত ভাইয়ের ‘ডি টুয়েলভ জিরো সেভেন’ ও স্কিপ খানের মিউজিক ভিডিও ‘গ্যানজাম’। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম গ্যাংস্টার র্যাপ গান। আমার নিজের প্রযোজনা সংস্থা মাফিয়া এন্টারটেনমেন্ট-এর ব্যানারে নির্মাণ করেছিলোম। আমি ছোটবেলা থেকেই হিপহপের সঙ্গে জড়িত। এ কালচারের সঙ্গে অনেক আগে থেকে যুক্ত। সেই জায়গা থেকে ভিজুয়ালাইজেশন পাওয়ারটা ছিল যে আমিও তৈরি করতে পারি। এটাই প্রথম। সিগনেচার ক্রিয়েট করা। হাই বাজেটের প্রথম র্যাপ মিউজিক ভিডিও। এটাকে দেখে এখন অনেকেই এমন কাজ করার চেষ্টা করছে।
আমার কাছের মানুষরাই আমাকে বিশ্বাস করছে না : সালসাবিল
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সঙ্গেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আপনার। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা?
সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ‘ফ্রি ফায়ার’ গেমের টিভিসিতে কাজ করেছি। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, সেই টিভিসিটি ব্যান হয়ে গেছে। কৃষ্ণেন্দু চট্রপাধ্যায় নির্মাণ করেছিলেন এটি। সাকিব আল হাসান একজন অসাধারন মানুষ। তিনি আমাকে স্নেহ করেন। একদিন শুটিং শেষে তার সঙ্গে গল্পকালে তিনটি প্রশ্ন করেছিলাম। উত্তরও দিয়েছেন তিনি। নিজের নাম্বার দিয়েছেন যোগাযোগের জন্য। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটা মানুষের কাছ থেকে এই ভালোবাসা পেয়ে আমার আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে যায়।
মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছেন। সেটি পুরস্কারও পেয়েছে…
২০২৩ সালে ‘নাইয়া’ শিরোনামের একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছি। শাহরিয়ার পলক ভাইয়ের নির্মাণ। সাব্বির নাসির ভাইয়ের গান। গানটি চ্যানেল আওয়ার্ড-২০২৫ পেয়েছে। এটির শুটিং করেছি চর এলাকায়। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে এখন আর সেই চরটি নেই। বিলীন হয়ে গেছে।

অবসর সময়ে কী করতে পছন্দ করেন?
আমার বেড়ে উঠা ধানমণ্ডিতে। বন্ধুবান্ধব রয়েছে অনেক। তবে অবসর সময়ে স্টাডি করি প্রচুর। জিও পলিটিক্স, বিজনেস স্টার্টআপ- এসব নিয়ে আমার আগ্রহ বেশি। অবকাশ যাপনে আড্ডা, নতুন নতুন মানুষের সাথে চলাফেরা পছন্দের। সিনিয়রদের সঙ্গে চলার চেষ্টা করি। জিম, ওয়ার্কআউট, গেম খেলি। আমি একজন অ্যাথলেটিক ও স্ট্যান্ট রাইডারও। প্রডাক্টিভিটির ভেতরেই থাকা হয় বলতে গেলে।
অভিনয় করেন, সিনেমা দেখা হয় নিশ্চয়ই?
প্রচুর সিনেমা সিরিজ দেখি। দেখে দেখে নিজেকে আয়ত্ব করছি। আমার তো থিয়েটারের ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। দেখে দেখেই শিখেছি। দর্শকদের ভালোবাসাই আমার শেখার আগ্রহ বাড়িয়েছে। তবে সময় পেলেই সিনেমা দেখি। আমার পছন্দের অভিনেতা হুমায়ূন ফরিদি, নায়করাজ রাজ্জাক, আফরান নিশো, টম হার্ডি, হোয়াকিন ফিনিক্স, হিথ লিজার। এছাড়া বলিউডে শাহরুখ খান, সালমান খান। দক্ষিণী সিনেমায় বিজয় থালাপতি, প্রভাস, রজনীকান্ত, বিজয় সেতুপাতি আমার অনেক পছন্দের।
শাকিব খানের বেশ বড় ভক্ত আপনি। তাকে আদর্শ মানেন। তার সম্পর্কে যদি কিছু বলেন…
হ্যাঁ। আমার আইডল শাকিব খান। তিনি বাংলাদেশের সুপারস্টার। আমাদের গর্ব। সাম্প্রতিক সময়ে ‘তুফান’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’ একের পর এক দুর্দান্ত কাজ উপহার দিয়েছেন তিনি। ক্যারেক্টার শিফটিং, ভয়েস টোন, অভিনয় দক্ষতা- সবমিলিয়ে তিনি এখন আমার অভিনয়ের আদর্শ। তাকেই গুরু মানা শুরু করেছি। তার মতো হিরো হওয়ার প্রচণ্ড ইচ্ছা। পর্দায় যেমন তিনি দুর্দান্ত, তেমনি ব্যক্তি জীবনেও ততটাই নীরব। যেকোনো কন্ট্রোভার্সিতে তিনি নিজেকে শান্ত রাখেন, কাজে ফোকাসড থাকেন। প্রমোশনাল বিষয় এভয়েড করেন। যা আমার খুব পছন্দ। আমার মাঝেও সেই বিষয়গুলো আছে। আমি শাকিব খানের মতো কোটি ভক্তের হিরো হতে চাই।

সামনে আপনার বেশ কিছু প্রজেক্ট আসছে। সেগুলো সম্পর্কে যদি বলতেন…
ক্যাপিটাল ড্রামার পরিবেশনায় ভিকি জাহেদ ‘খোয়াবনামা’ আসছে। এতে তানজিন তিশা, তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে আমি আছি। এটি প্রেমের গল্পে দারুণ এক থ্রিলার। ২৫ বছর আগের এক লাভ স্টোরির গল্পে নির্মিত হচ্ছে। এছাড়া এনটিভির ‘জয়ীতার দিনরাত্রি’ আসছে, এতে তানিয়া বৃষ্টির বিপরীতে অভিনয় করেছি আমি। এটি পরিচালনা করেছেন তুহিন হোসেন। রিফাদ আহমেদ পাপনের পরিচালনায় ‘অপেক্ষা’ শিরোনামের একটি নাটকেও দেখা যাবে আমাকে। এতে আমার সঙ্গে অভিনয় করেছেন তাসনুভা তিশা। এছাড়াও অনম বিশ্বাসের আসন্ন গ্রমীনফোনের একটি বিজ্ঞাপনে দেখতে পাবেন আমাকে। তবে একটি প্রজেক্ট নিয়ে আমি প্রচণ্ড আশাবাদী। তানিম রহমান অংশুর ‘খালিদ’-এর সিক্যুয়াল। ‘খালিদ ২’-তে পলাশ ফার্স্ট লিড হিসেবে থাকছে। সেকেন্ড লিডে আমি থাকছি।
আগামীতে কী ধরনের কাজ করতে চান?
কাজের ক্ষেত্রে অ্যাকশন জনরা, থ্রিলার, রোমান্টিক, ফেমিলি ড্রামা পছন্দ। সব ধরনের কাজই সমানভাবে করতে চাই। আমি মিক্সড মার্শাল আর্ট শিখেছি। যদি সুযোগ হয় তবে অ্যাকশন জনরায় নিজেকে প্রমাণ করতে চাই। এটা আমার অনেক পছন্দের জনরা।
ভবিষ্যতে অভিনয়ের পাশাপাশি আর কী করতে চান?
এডুকেশন টেকনোলজি নিয়ে ভবিষ্যতে স্টার্টআপ করার ইচ্ছা আছে। আড়াই বছর যাবৎ প্লান করছি এটার। ভবিষ্যতে গ্রামীনফোনের অ্যাম্বাসাডর হওয়ারও ইচ্ছা আছে। তাদের সঙ্গে অনেকগুলো কাজ করেছি। বন্ডিংটাও ভালো। গ্রামীনফোন আমার ভালোবাসার একটা জায়গা। বাকীটা আপনাদের সবার দোয়া। দেখা যাক কতদুরে যেতে পারি…








































