ছবি : এআই
লেবানন ও ইসরায়েলের বেসামরিক প্রতিনিধিরা বুধবার কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেছেন। হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘাতে এক বছর আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বৈঠকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর লেবানন সদর দপ্তর নাকুরায়, যা ইসরায়েল সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এটি নভেম্বর ২০২৪ থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি তদারকির একটি ব্যবস্থার অংশ।
বুধবারের এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের লেবাননবিষয়ক বিশেষ দূত মরগান অর্টাগাসও অংশ নেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই লেবাননের ওপর চাপ দিয়ে আসছে, যাতে দ্রুত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা হয়।
অর্টাগাসের এ অংশগ্রহণ আসে তার এক দিন আগে জেরুজালেম সফরের পর, যেখানে তিনি ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
এতদিন পর্যন্ত ইসরায়েল ও লেবানন—যাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এই ধরনের আলোচনায় কেবল সামরিক কর্মকর্তাদেরই রাখার ওপর জোর দিয়ে আসছিল।
যুক্তরাষ্ট্র এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সরাসরি সংলাপ শুরুর জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে, যাতে অঞ্চলটি স্থিতিশীল হয় এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে আরো দুর্বল করা যায়।
নেতানিয়াহুর দপ্তর ঘোষণা করেছে, তিনি লেবাননের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য একজন বেসামরিক প্রতিনিধিকে পাঠাচ্ছেন। একে তারা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের ভিত্তি গঠনের প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।
একই দিন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের দপ্তরও জানায়, তাদের পক্ষের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন সাবেক রাষ্ট্রদূত সিমন কারাম। তারা আরো জানায়, ইসরায়েলও তাদের প্রতিনিধিদলে ‘একজন অ-সামরিক সদস্য’ অন্তর্ভুক্ত করছে বলে লেবাননকে জানানো হয়েছে।
লেবাননের পক্ষ থেকে বেসামরিক প্রতিনিধিকে নিযুক্ত করার বিষয়টি আসে দেশটি দক্ষিণের প্রতিবেশীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দেওয়ার পর।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, লেবাননের আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হওয়া উচিত—যে চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে।








































