সস্ত্রীক হলিউড পরিচালকের মৃত্যুর ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তার, তির্যক মন্তব্য ট্রাম্পের

হলিউড পরিচালক রব রেইনার ও স্ত্রী মিশেল সিঙ্গার। ফাইল ছবি : রয়টার্স

হলিউড পরিচালক রব রেইনার এবং তার স্ত্রীকে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়ার পর তাদের ছেলে নিক রেইনারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন গণমাধ্যম সোমবার জানিয়েছে।

নেটওয়ার্ক সিবিএস ও এবিসি জানিয়েছে, নিক রেইনারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছে, কারাগারের নথির বরাতে তাকে হত্যার সন্দেহে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশের ডেপুটি চিফ অ্যালান হ্যামিল্টন এর আগে বলেন, ৭৮ বছর বয়সী অভিনেতা-পরিচালক এবং তার স্ত্রী মিশেল সিঙ্গার রেইনারের পরিবারের ‘সব সদস্যের’ সঙ্গে কথা বলতে চান তদন্তকারীরা।

তাদের মরদেহ রবিবার উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনাটিকে ‘প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রেইনারের মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে থাকেন অনেকে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হলিউডের এই আইকনকে নিয়ে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেন এবং ইঙ্গিত দেন, পরিচালকের ‘রাগী’ সমালোচনার কারণেই নাকি এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম পুলিশ সূত্রের বরাতে জানায়, দম্পতিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। তবে সেলিব্রিটি নিউজ ওয়েবসাইট টিএমজেড—যারা প্রথম খবরটি প্রকাশ করে—জানায়, পারিবারিক কলহের সময় পরিবারেরই এক সদস্য তাদের গলা কেটে হত্যা করেছে।

রব রেইনার হলিউডের একজন কিংবদন্তী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

তিনি ‘স্লিপলেস ইন সিয়াটেল’ এবং ‘দ্য উলফ অফ ওয়াল স্ট্রিট’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন।পাশাপাশি, তিনি ‘দিস ইজ স্পাইনাল ট্যাপ’, ‘দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড’, ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’ এবং ‘এ ফিউ গুড মেন’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলো পরিচালনা করে খ্যাতি অর্জন করেন।

রেইনার ছিলেন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এবং প্রগতিশীল নানা আন্দোলনের প্রকাশ্য সমর্থক—যা সোমবার হত্যাকাণ্ডের এক দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের ওই অস্বাভাবিক মন্তব্যের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা যখন শোকাহত, তখন ট্রাম্প দাবি করেন—রাইনার নাকি ‘ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট সিনড্রোম’ নামে এক ‘মনের রোগে’ আক্রান্ত হয়ে অন্যদের মধ্যে যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিলেন, তার ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ‘উন্মত্ত আসক্তি’ ও ‘স্পষ্ট প্যারানয়া’ দিয়ে তিনি নাকি মানুষকে ‘পাগল’ করে তুলতেন—আর ট্রাম্প প্রশাসন যখন ‘সাফল্যের সব লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাচ্ছিল’, তখন সেই আসক্তি নতুন উচ্চতায় পৌঁছয়।

LEAVE A REPLY