ছবি : রয়টার্স।
ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আজ সোমবার (২৫ মে) শুরু হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, এ বছর বিদেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী দেশটিতে পৌঁছেছেন।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসল্লি হজ পালনে অংশ নিতে সৌদি আরবে এসেছেন।
সৌদি আরবের হজ পাসপোর্ট বাহিনীর কমান্ডার সালেহ বিন সাদ আল-মুরব্বা বলেন, বিদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ১৫ লাখ ১৮ হাজারের বেশি হয়েছে। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এই হজে অংশ নেন। মিসরের হজযাত্রী সামিয়া আব্দুল মোনেইম বলেন, হজ পালনের সুযোগ পেয়ে তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।
তার ভাষায়, ‘আমি খুবই আনন্দিত ও সৌভাগ্যবান বোধ করছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
হজের প্রথম দিনে অনেক তীর্থযাত্রী মক্কার কাছাকাছি মিনার বিশাল তাঁবু নগরীতে সমবেত হন। এর আগে তারা পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন।মঙ্গলবার হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচিত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন মুসল্লিরা। সেখানে তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, ইবাদত ও দোয়া করবেন।
এদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং পরে এপ্রিলে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়ে এবং ভ্রমণ ব্যয় বেড়ে যায়।
তবে এসব পরিস্থিতি হজযাত্রীদের উৎসাহ কমাতে পারেনি। অনেক মুসল্লি জানিয়েছেন, তারা বছরের পর বছর অপেক্ষা ও সঞ্চয়ের পর হজে আসার সুযোগ পেয়েছেন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেই এই যাত্রা করেছেন। সৌদি আরবে বর্তমানে তীব্র গরম থাকায় হজযাত্রীরা ছাতা ও হাতপাখা ব্যবহার করছেন। স্বেচ্ছাসেবকেরা পানির বোতল বিতরণ করছেন এবং কুলিং ফ্যানের মাধ্যমে ঠাণ্ডা পানির কুয়াশা ছড়িয়ে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির মুসলমানদের একত্রিত করে হজ। অনেকের মতে, এই সমাবেশ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার কারণে ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশ তাদের হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি ও জরুরি পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।










































