বিশ্বের প্রতি ৭০ জনের একজন বাস্তুচ্যুত

বিশ্বজুড় অন্তত ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে।  অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৭০ জন মানুষের মধ্যে ১ জন নিজের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) মানুষের নিজ দেশে ফেরার হার বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।

তবে ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে লেবানন ও ইরানে চলমান সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ কোটি ৭৩ লাখ মানুষের মধ্যে—

  • ৬ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ নিজ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুৃত (আইডিপি)
  • ২ কোটি ৮৫ লাখ শরণার্থী ইউএনএইচসিআরের আওতাভুক্ত
  • ৯০ লাখ আশ্রয়প্রার্থী (অ্যাসাইলাম সিকার)
  • ৭২ লাখ আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষ
  • ৬০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) অন্তর্ভুক্ত।

সবচেয়ে বেশি শরণার্থী কোন দেশগুলো থেকে?

বিশ্বের মোট শরণার্থীর প্রায় ৭২ শতাংশ এসেছে মাত্র সাতটি দেশ থেকে—

  • ভেনেজুয়েলা- ৬৪ লাখ
  • ফিলিস্তিন- ৬০ লাখ
  • ইউক্রেন- ৫২ লাখ
  • সিরিয়া- ৪৯ লাখ
  • আফগানিস্তান-৩৭ লাখ
  • সুদান- ২৮ লাখ
  • দক্ষিণ সুদান-২৪ লাখ

সবচেয়ে বেশি শরণার্থী আশ্রয় দিয়েছে যেসব দেশ

বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশের বেশি শরণার্থী মাত্র সাতটি দেশে বসবাস করছে—

  • কলম্বিয়া- ২৮ লাখ
  • জার্মানি-২৭ লাখ
  • তুরস্ক-২৪ লাখ
  • উগান্ডা-১৯ লাখ
  • ইরান- ১৭ লাখ
  • চাদ-১৫ লাখ
  • পাকিস্তান-১৩ লাখ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন এমন প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ নিজ দেশের প্রতিবেশী দেশগুলোতেই আশ্রয় নিয়েছে। যেমন, ইরান ও পাকিস্তানে থাকা প্রায় সব শরণার্থীই আফগান, আর তুরস্কে থাকা অধিকাংশ শরণার্থী সিরীয়।

অন্যদিকে, কলম্বিয়ায় বেশিরভাগ শরণার্থী ভেনেজুয়েলা থেকে আসা, আর জার্মানিতে ইউক্রেন, সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের সংখ্যা বেশি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

LEAVE A REPLY