মুসলিম হওয়ায় কি বলিউডে কোণঠাসা এ আর রহমান?

সংগৃহীত ছবি

তিন দশকের সংগীতজীবনে অগণিত হিট গান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা— এমনকি অস্কারও জিতেছেন তিনি। বিশ্বসংগীতের দরবারে যাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, সেই এ আর রহমানই কি আজ বলিউডে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির শিকার?

সম্প্রতি এমনই বিস্ফোরক দাবি করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছেন ‘মাদ্রাজ মোজার্ট’। তাঁর বক্তব্য, গত আট বছরে বলিউডে একের পর এক কাজ হাতছাড়া হয়েছে। এর নেপথ্যে ধর্মীয় বিভাজন এবং অর্বাচীন ব্যক্তিত্বদের হাতে ক্ষমতা যাওয়াকেই দায়ী করেছেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে রহমান বলেন, “ক্ষমতার বদলের পর থেকেই বলিউডে কাজের সুযোগ কমতে শুরু করেছে। কারণ এখন যাঁদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, তাঁদের অনেকেই সৃজনশীল নন। এর সঙ্গে ধর্মীয় বিভাজনের বিষয়টিও যুক্ত থাকতে পারে। যদিও এসব কথা কেউ সরাসরি বলেনি, তবে কানাঘুষো শুনেছি।

দীর্ঘদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বলিউডের তুলনায় দক্ষিণী চলচ্চিত্র শিল্পে রহমানের কাজের পরিমাণ বেশি। সেই নিয়েই চলছিল নানা জল্পনা। এবার নিজেই সেই জল্পনার নেপথ্যের কারণ সামনে আনলেন অস্কারজয়ী সুরকার।

রহমানের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে বিতর্ক।

বিরোধী শিবিরের নিশানায় বিজেপি। তবে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতাওয়ালে বলেন, “রহমানের অভিযোগের সঙ্গে আমি একেবারেই একমত নই। হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে সালমান খান, শাহরুখ খান, আমির খানের মতো বহু মুসলিম শিল্পী রয়েছেন, যাঁদের সারা দেশের মানুষ ভালোবাসেন।”

বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি সৈয়দ ভাষারও রহমানের দাবি খারিজ করেছেন।

তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি সরকারের আমলে কাজ পাননি— এ কথা ঠিক নয়। নইলে ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’, ‘মাদ্রাজ ক্যাফে’র মতো কাজ সম্ভব হতো না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই তিনি ২০২২ সালে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন।”

সব মিলিয়ে বিজেপির শাসনকালে এ আর রহমান বলিউডে কোণঠাসা— এই তত্ত্ব ঘিরে এখন তীব্র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক।

LEAVE A REPLY