সংগৃহীত ছবি
ওজন কমাতে হলে কঠিন দৌড়ঝাঁপ বা অতিরিক্ত ঘাম ঝরানোই একমাত্র পথ—এমন ধারণা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। হৃদ্রোগ ও রক্তসঞ্চালন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেডমিলে মাঝারি গতিতে ঢালু পথে হাঁটা হতে পারে মেদ ঝরানোর কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী কৌশল।
এই পদ্ধতিতে সাধারণত ট্রেডমিলের ঢাল ১০-১২ শতাংশ রাখা হয় এবং গতি থাকে নিয়ন্ত্রিত। এতে শরীর অতিরিক্ত ধাক্কা না খেয়ে এমন এক তীব্রতায় কাজ করে, যেখানে শক্তির উৎস হিসেবে চর্বি ব্যবহারের হার বাড়ে।
ফলে ধীরে হলেও স্থায়ীভাবে মেদ কমাতে সহায়ক হতে পারে এই অনুশীলন।
ঢালু পথে হাঁটার সময় পা, নিতম্ব ও কোমরের পেশিগুলো একসঙ্গে সক্রিয় হয়। সমতলে হাঁটার তুলনায় এতে বেশি ক্যালরি খরচ হয়, তবে দৌড়ানোর মতো হাঁটু বা গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। তাই জোড়ায় হালকা সমস্যা আছে এমন অনেকের কাছেও এটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিকল্প।
বিশেষজ্ঞরা জানান, মাঝারি তীব্রতায় দীর্ঘ সময় হাঁটলে হৃদ্যন্ত্রের সহনশীলতা বাড়ে। রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকে, ফলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত না হয়ে ধীরে ধীরে চর্বি পোড়াতে পারে।
তবে সবার জন্য একই মাত্রা উপযোগী নয়। যারা নতুন শুরু করছেন, তাদের কম ঢাল ও কম সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ানো উচিত।
হৃদ্রোগ, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা দীর্ঘদিনের হাঁটু-জোড়ার সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হাঁটার ভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেডমিলের হাতল শক্ত করে ধরে হাঁটলে ব্যায়ামের কার্যকারিতা কমে যায়। সোজা হয়ে, সামনে তাকিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাত নাড়িয়ে হাঁটাই সবচেয়ে উপকারী। আর অবশ্যই আরামদায়ক ও সাপোর্টিভ জুতা পরা উচিত।
তবে শুধু হাঁটলেই হবে না। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত ক্যালরি গ্রহণ, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো—এসবের সঙ্গে এই ব্যায়াম যুক্ত হলে ফল ভালো আসে। পাশাপাশি সপ্তাহে কয়েকদিন হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করলে বিপাকক্রিয়া সক্রিয় থাকে।
সবশেষে বলা যায়, নিয়মিততা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়ালে, এই সহজ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমানোর নিরাপদ পথ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস











































